ছেলেধরা গুজবের ইস্যুতে আইনমন্ত্রীকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করলো সিপিএম - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন, ২০১৮

ছেলেধরা গুজবের ইস্যুতে আইনমন্ত্রীকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করলো সিপিএম

তন্ময় বনিক, আগরতলাঃ
রাজ্যজুরে ছেলেধরার যে গুজব রটেছে এবং বহু নিরপরাধ লোক আক্রান্ত হয়েছেন তার জন্য একমাত্র দায়ী শিক্ষা ও আইনমন্ত্রী রতনলাল নাথ। এই অভিযোগ তুলে আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে সিপিএম। আইনমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে মুখ্যমন্ত্রী যেন তাকে বরখাস্ত করেন। বৃহস্পতিবার(২৮জুন) সিধাই এর মুড়াবাড়িতে ছেলেধরা সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে মারা এবং তিনজনকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ততে সিপিএম। এদিন দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখপাত্র গৌতম দাস বলেন, তারানগরে শিশু খুনের ঘটনার পরপরই আইনমন্ত্রী পুলিশের সঙ্গে কোনও রকম কথা না বলে জানিয়েছেন রাজ্যে আন্তর্জাতিক ছেলেধরা চক্র ঢুকেছে। তারপর থেকেই সারা রাজ্যে এক অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সর্বত্র ছেলেধরার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তাতে সারা রাজ্যে কম করেও ন'জন নিরপরাধ আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান গৌতমবাবু। 
তিনি এদিন দুপুরে সিধাই থানাধীন মুড়াবাড়ির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, টিএসআর ক্যাম্পে গিয়েও জনতার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়নি বহিরাজ্যের যুবকরা। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ছেলেধরার গুজব রটিয়ে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। জাহির কুরেশি, খুরশিদ কুরেশি ও গুলজার কুরেশি নামে বহিরাজ্যের তিন যুবক গাড়িতে করে মুড়াবাড়ি এলাকায় বাসনপত্র বিক্রি করতে যায়। সেখানে ছেলেধরার গুজব রটিয়ে গ্রামবাসীদের উত্তেজিত করে তোলা হয়। গণধোলাইয়ে মৃত্যু হয় ৩৮ বছরের যুবক জাহিরের। আশংকাজনক অবস্থা খুরশিদ, গুলজার ও গাড়ির চালক স্বপন মিয়াঁর শারীরিক অবস্থা। খোয়াইয়ে আক্রান্ত হয়েছেন একজন টেলিকম ইঞ্জিনিয়র। তাছাড়া উদয়পুর, এ ডি নগর, নেতাজী চৌমুহনী সহ বিভিন্ন জায়গায় এধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এরজন্য সিপিএম সম্পূর্ণভাবে দায়ী করে মন্ত্রী রতনলাল নাথকে। তার দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের জন্যই এধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করে সিপিএম। তাই নৈতিক দায় স্বীকার করে আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করে সিপিএম। দলের মুখপাত্র শ্রী দাস বলেন, আইনমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে মুখ্যমন্ত্রী যেন মন্ত্রিসভা থেকে তাকে বরখাস্ত করেন। শ্রী দাস অভিযোগ করেন রাজ্যে বিগত তিনমাস ধরে আইনের শাসন নেই। রাজ্যের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত, নগর পঞ্চায়েত, পুরসভাগুলিতে এতজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কেন পদত্যাগ করেছেন তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কোনও রকম তদন্ত না করানোয় কটাক্ষ করেন গৌতমবাবু। ডেইলি দেশের কথা পত্রিকার উপর বিভিন্ন ভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন জায়গায় গাড়ির চালকদের দেশের কথা না নেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। বিজেপি আইপিএফটি সেলের কিছু যুবক বিভ্রান্তিমূলক কথা সোশ্যাল সাইটে পোস্ট করছে বলে এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। দাবি জানানো হয় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের। শ্রী দাস বলেন, রাজ্যে এখন বিরোধী দলের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার নেই। তিনি ছেলেধরা ইস্যুতে জনগণের প্রতি আহবান জানান, তারা যেন আইন হাতে তুলে না নেন। প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। 

ছবিঃ সংগৃহীত
২৮শে জুন ২০১৮ইং              

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here