জাপানিদের চোখে প্রবাসী বাংলাদেশিরা - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০

জাপানিদের চোখে প্রবাসী বাংলাদেশিরা

এনামুল সরকার আসিফ, জাপান,আরশিকথাঃ
এশিয়া মহাদেশের মধ্যে জাপান একটি উন্নত দেশ এবং এর সাথে সাথে  বিশ্বের কাছে জাপান একটি ধনী দেশ হিসেবে পরিচিত । বিশ্বের মধ্যে জাপানিজরা ভদ্র জাতি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এবং বিশ্বের দরবারে এ জাতি অনেক পরিশ্রমী জাতি হিসেবে বিবেচিত। এছাড়াও জাপানিদের যেকোনো  ক্ষেত্রে সাহায্যের সুনাম রয়েছে এবং বিশ্বের মধ্যে জাপানিজরা অতি অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। একটি বিষয় লক্ষ্য করা গেছে যে, তারা মানুষকে যতটা সাহায্য করে বিশ্বের কোথাও এরকম দেখা যায় না।  জাপানিজরা বিশ্বের মধ্যে মানুষকে সাহায্য এবং সহযোগিতা করার বিষয়টি বিশ্বের জন্য একটি নজিরবিহীন ঘটনা। বিশেষ করে জাপানিজরা যেকোন প্রকার সহযোগিতার ক্ষেত্রে অনেক বেশি দয়ালু এবং তাদের মানুষের বিপদ আপদে এগিয়ে আসার বিষয়টিও গোটা বিশ্বের জন্য আইডিল। 

নিউইয়র্ক মেইল এর পক্ষ হতে এ সভ্য জাতির কাছে জানতে মুখোমুখি হয়েছি তাদের চোখে কেমন প্রবাসী বাংলাদেশিরা?

জাপানের নাগরিক রিয়ু আমেরিকার আমোয়ে কোম্পানীর জাপানে মার্কেটিং  এর কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন। যার সুবাধে জনাব রিয়ু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সাথে পরিচিত লাভ করেছেন। রিয়ু জাপানে আমোয়ে কোম্পানীর সাথে কাজ করার মেয়াদ খুব বেশিদিন হয়নি । তিনি খুব অল্প বয়সে খুব দ্রুত এগিয়ে গেছেন। তাহার বয়স ২৬ বছর । রিয়ু এর বিভিন্ন দেশের বন্ধুবান্ধব রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে কাছের বন্ধুমহল হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

জনাব রিয়ুর সর্বপ্রথম এক  বাংলাদেশির সাথে পরিচিত হয় একটি জাপানিজ ইজাকায়া রেস্টুরেন্টে। পরিচিত হওয়ার পর বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে অনেক বেশি আগ্রহী হন এবং তিনি বাংলাদেশ সম্পর্কে বন্ধুর কাছে অনেক কিছু জানেন এবং পাশাপাশি তিনি তার বন্ধুর মাধ্যমে আরও বেশি জানার জন্য অন্যান্য বাংলাদেশীদের সাথে তিনি মেলামেশা করেন। তারপরই হয়ে ওঠে বাংলাদেশি এবং জাপানীর মধ্যে একটি  বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। এছাড়া বাংলাদেশিদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে থাকেন এবং তার যে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি আমেরিকার আমোয়ে তিনি বাংলাদেশি সকল প্রকার বন্ধু মহলকে তিনি তার কোম্পানিতে সদস্য হিসেবে যোগদান করান এবং তাছাড়া তিনি বাংলাদেশীদেরকে বিভিন্নভাবে উৎসাহ এবং এবং কিভাবে বাংলাদেশিরা অল্প সময়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে  সে বিষয়ে পরার্মশ দেন। তাছাড়াও তিনি প্রবাসী বাংলাদেশী বন্ধুদেরকে উৎসাহ যোগান দেন কিভাবে প্রবাসী বাংলাদেশীরা অতি অল্প সময়ে জাপানে উন্নয়নের শিখরে আরোহণ করতে পারে। এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। 

রিয়ু বলেন, বিগত দিনগুলোতে তিনি বিভিন্ন দেশের এবং বিভিন্ন মানুষের সাথে চলাফেরা করেছেন এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের সাথে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে একটি কথা বলেছেন যে, বাংলাদেশী হিসেবে খুবই আন্তরিক এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে অনেক বন্ধুসুলভ এবং তারা মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং একে অপরের প্রতি এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অনেক ভালো অবস্থানে আছেন। 

তিনি আরও বলেন, বাঙালিরা বর্তমান পরিস্থিতিতে জাপানিদের মনে ভালো জায়গা করে নিয়েছে । এছাড়াও রিয়ু বলেন, তিনি বিগত সময়গুলোতে যখন ছাত্র ছিলেন তখন বাংলাদেশীদের সাথে পার্টটাইম কাজ করতেন। ওই সময় তিনি বাংলাদেশ থেকে বিভিন্নভাবে কাজে সাহায্য এবং সহযোগিতা পেতেন। বাংলাদেশিরা কাজ করার ক্ষেত্রে খুবই আগ্রহীর সহিত ভালোভাবে কাজ করে এবং তারা বিগত দিনগুলোতে জাপানে সম্মানের সহীত রেস্টুরেন্ট এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে এসেছেন। তাছাড়া তিনি আরো বলেন, এই বাংলাদেশীদের মধ্যে তার সবচেয়ে ভালোলাগার গুরুত্বপূর্ণ  বিষয়টি হচ্ছে বাংলাদেশীদের মনে মমতাবোধ অনেক বেশি। তিনি বলেন, আশা করি প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিশ্বের প্রতিটি দেশে সন্মানের সহিত এগিয়ে যাবে। 

এদিকে জাপানের রেস্টুরেন্টে কর্মরত আবে বলেন, তার এ রেস্টুরেন্টে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রায় ১৫ বছরের। ১৫ বছরের ভিতর তিনি অনেক প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি জানান, তার কাজ করার সময় এবং বিগত দিনগুলোতে বাংলাদেশের সাথে তার কাটানো দিনগুলো, বাংলাদেশীদের ব্যবহার এবং বাংলাদেশীদের সোহার্দ্যপূর্ণ এবং বন্ধুসুলভ  আচরণে তিনি খুব মুগ্ধ হয়েছেন। এছাড়াও তিনি আরও বলেন, তার বিগত দিনসমূহে তিনি বাংলাদেশীদের সাথে চলাফেরা করছেন। ওই চলাফেরা থাকাকালীন সময়ে তিনি বাংলাভাষা শিখতে চেষ্টা করেছেন। আবে বলেন, বাংলাদেশীদের সাথে তিনি চলাকালীন অবস্থা থেকে শুরু করে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকার খাবার খেয়েছেন। তার মধ্যে তার পছন্দের খাবার তালিকা হচ্ছে বাংলাদেশি বিরিয়ানি এবং বাংলাদেশি খিচুড়ি এবং বাংলাদেশি রুটি এবং বাংলাদেশি হালুয়া এবং  বিভিন্ন প্রকার খাবার খেয়ে বাংলাদেশীদের মতো খাবারের অভ্যাসে পরিণত করেছেন। এছাড়া তিনি বলেন, বাংলাদেশি খাবার অনেক বেশী সুস্বাদু এবং এটা অনেক মানসম্মত। 

এ বিষয়ে তিনি বলেন. ভবিষ্যতে বাংলাদেশীদের সাথে বাংলাদেশ ঘুরতে যেতে চান। আবে বলেন, তিনি যেন ভবিষ্যতেও পূর্বের ন্যয় বাংলাদেশীদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে পারেন এই চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এছাড়াও তিনি বলেন, বাংলাদেশীদের সাথে তিনি সবসময় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চান।

এদিকে জাপানের টেলিভিশন অভিনেতা জনাব মাহেরা বলেন,  তিনি যদিও জাপানে অভিনয় শিল্পীতে আছেন তারপরও তিনি মাঝে মাঝে বাংলাদেশীদের বিভিন্ন প্রকার নাটক এবং বিভিন্ন প্রকার সামাজিক অনুষ্ঠান অনুবাদ করে দেখে থাকেন এবং বাংলাদেশের অনেক অভিনীত শিল্পীদের তিনি পছন্দ করেন। এছাড়াও মাহেরা বলেন, ভবিষ্যতে যদি পারেন তিনি বাংলাদেশে ঘুরতে গিয়ে একটি নাটক করবেন এবং যার মূল উদ্দেশ্য থাকবে জাপান এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে এবং তিনি চেষ্টা করবেন দুটি দেশের সাংস্কৃতিক এবং দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্ক যেন আরো জোড়ালো হয়।

জনাব মায়েরা বলেন, তার বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকার অনুষ্ঠান অনেক ভালো লাগে। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তার কাছে বাংলাদেশের সবচেয়ে কমেডি নাটকগুলো ভালো লাগে। তার মনে বাংলাদেশের কমেডি নাটকের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক নাটকও জায়গা করে নিয়েছে বলে তিনি জানান।

১০ আগস্ট ২০২০

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here