সাক্ষাৎকারে গোবিন্দ্র চন্দ্র প্রামাণিকঃ নির্যাতন ছাড়াও অনেক হিন্দু ভারত গেছে - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

test banner

Post Top Ad

test banner

শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৯

সাক্ষাৎকারে গোবিন্দ্র চন্দ্র প্রামাণিকঃ নির্যাতন ছাড়াও অনেক হিন্দু ভারত গেছে

আবু আলী, ঢাকা:
বাংলাদেশ থেকে অনেক স্বচ্ছল হিন্দু নির্যাতন ছাড়াই ভারতে গেছে। এরমধ্যে অনেকে বাড়ি বানিয়েছেন। এমনকি নেতাও হয়েছেন। রাজনীতি করছেন দাপটের সঙ্গে। তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা দরকার। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, বর্তমান ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিসহ অনেক কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তিই বাংলাদেশের ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁরা ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। নচিকেতা কয়েক দিন আগে এসে তার নিজ বাড়ি থেকে ঘুরে গেছেন। বাংলাদেশ থেকে ভারতে যে লোকজন গেছেন তা সরকারও স্বীকার করে। সরকারের কাছে এ বিষয়ে তালিকাও রয়েছে। সেখানে তাদের ঠিকানা লেখা আছে হাল সাং ভারত। এসব লোকদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে তাদের অর্পিত সম্মত্তি ফিরে দেওয়া দরকার।
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোবিন্দ্র চন্দ্র প্রামাণিক একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, অসমের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরচি নিয়ে উভয় দেশের বিশেষ বৈঠক করে সমাধানে পৌঁছানো দরকার। তিনি বলেন, কয়েক দফায় বাংলাদেশ থেকে হিন্দুরা ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন। এরমধ্যে ১৯৪৭ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় উচ্চ পর্যায়ের বিশেষ করে জমিদার শ্রেনীর হিন্দুরা ভারতে গেছে। এরপর ১৯৬৭ সালে মধ্যবিত্তের হিন্দুরা দেশ ত্যাগ করেছেন। এরপর পাকিস্তান সরকার একটি আইন করেছেছিল হিন্দুদের জমি কিনতে ডিসির অনুমোদন নিতে হবে। এ বিষয়ে এক অডিন্যান্স জারি করে। সেটি ছিল ইপি অর্ডিন্যান্স নং ১ অব ১৯৬৪। এরপর অনেক হিন্দু জমি-জমা বিক্রি না করেই ভারতে চলে গেছেন। এ সময় তিনি অর্পিত সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবি করেন এবং যারা দেশে ফেরত আসতে চায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দবি করেন। গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, নিখোঁজ হিন্দুদের তালিকা তো সরকারই অর্পিত সম্পত্তি ‘ক’ এবং ‘খ’ তালিকায় গ্যাজেট আকারে প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ সরকারের পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেব কী বলছে? তিনি বলেন, ১৯০১ সালে বাংলা ভূখন্ডে মুসলিম ছিল ১ কোটি ৯১ লক্ষ ১৩ হাজার। আর হিন্দু ছিল ৯৫ লক্ষ ৪৫ হাজার। অর্থাৎ মুসলমান সংখ্যার অর্ধেক হিন্দু। ২০০১ সালে মুসলমান জনসংখ্যা ১১ কোটি ১০ লক্ষ ৭৯ হাজার এবং হিন্দু জনসংখ্যা ১ কোটি ১৩ লক্ষ ৭৯ হাজার। সম্প্রীতির হিসেব অনুসারে হওয়া উচিত ছিল সাড়ে ৫ কোটি। সরকারি হিসেব মতে, ৪ কোটি হিন্দু নিখোঁজ। অনেকেই বাংলাদেশে আসতে চায় না এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অনেকে লন্ডনে গিয়ে তো আর দেশে ফিরে আসতে চায় না।

১০ই আগস্ট ২০১৯

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

test banner