Type Here to Get Search Results !

প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের পথেই কি পাকিস্তান? - আরশিকথা দেশ-বিদেশ

আরশিকথা নিউজ ডেস্কঃ

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভেঙে দেয়া হলো পাকিস্তানের পার্লামেন্ট। স্থানীয় সময় বুধবার (৯ আগস্ট) মধ্যরাতে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির কাছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে আনুষ্ঠানিক আবেদন করলে, তা গ্রহণ করা হয়। এদিকে, কারাবন্দি পিটিআই নেতা ইমরান খানের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তাই অনেকেই বলছেন, দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় এই নেতাকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের আয়োজন প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে পুরো প্রক্রিয়াকে।জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেয়ার সারসংক্ষেপে সই করছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি।

নানা নাটকীয়তা আর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট। নির্ধারিত সময়ের তিন দিন আগেই বুধবার রাতে পার্লামেন্ট ভেঙে দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। যদিও এর আগে প্রেসিডেন্টের কাছে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
 
সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্ট বিলুপ্তির ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে, জাতীয় পরিষদ মেয়াদ পূর্ণ করলে ৯০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধানও রয়েছে।
 
পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার যাত্রা শুরু করেছিল। তবে গত বছরের এপ্রিলে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বিরোধীদের আনা আস্থা ভোটে হেরে ইমরানের সরকার ক্ষমতা হারায়। পরে শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে বিরোধীরা জোট সরকার গঠন করে।

এরই মধ্যে তোশাখানা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ইমরান খানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ইসলামাবাদ আদালত। আর কারাবন্দি এই পিটিআই নেতাকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচন থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। এ অবস্থায় আসন্ন নির্বাচনে ইমরান খানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
 
রাজনৈতিক অনেক বিশ্লেষকের মতে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সহায়তায় ২০১৮ সালে ইমরান খান ক্ষমতায় এসেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু সেই সম্পর্কে এখন ফাটল ধরেছে এবং এর সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা। তবে ইমরান খানের ওপর পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের সমর্থন রয়েছে বলেও মনে করা হয়। ফলে তাকে বাদ দিয়ে বা জেলে রেখে নির্বাচনের আয়োজন পুরো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
 
এদিকে, পার্লামেন্টে বিদায়ী ভাষণে দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এসময়, ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ১৬ মাস প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনা সবচেয়ে কঠিন ছিল বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে আগের সরকারের ব্যর্থতা ও অবহেলার দায় নিয়েই দেশ পরিচালনা করতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

এর আগে, বুধবার স্থানীয় সময় সকালে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানোর ঘোষণা দেন শাহবাজ শরিফ। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের বিরোধী দলের নেতা রাজা রিয়াজের সঙ্গে আলোচনা শেষে বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।


আরশিকথা দেশ-বিদেশ



 তথ্য- সৌজন্যে  ইন্টারনেট

১০ই আগস্ট ২০২৩
 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.