অনেকেই প্রেমপিরিতির সঙ্গী ছাড়াই গোটা জীবন কাটিয়ে দেয়।
কিন্তু ভাতের পাশে একটু নুন না হলে চলে না । এই চরম সত্য তোমার মুখোমুখি সপাটে, উচ্চারণ করতে গিয়ে দেখি-- পলাশের কুঁড়ি, আমের মুকুল, ফাগুন মঞ্জরী কী আশ্চর্য আবেগে পাতা নেড়ে বলছে-- তুমি আর কিছুক্ষণ প্রতীক্ষা করো। সক্রেটিসের বিষের পাত্র ভেঙে চুরমার করে দাও। সূর্যাস্তকে গোধূলিতেই আটকে রাখো, যাতে কালো মেয়েটিকে খুউব সুন্দর লাগে। নীলতারা, আমি আকাঙ্খার মোড়ে দাঁড়িয়ে গুনগুন করছি মনিহারের গান--
ফাগুন আগুন লাগে, মন কোন কাজে লাগে না, কি করিতে কি যে হয়ে যায়...
মানে না নয়ন কেন ফিরে ফিরে চায়, কে যেন গো ডেকেছে আমায়...
তুমি আজও এত নিষ্ঠুর যে এক চোখে কাজল পরে দক্ষিণ মেরুর দিকেই তাকিয়ে আছো, পোস্ট মডার্ণ কবিতার জন্য। অথচ,আমি আসবো উত্তর মেরু থেকে। সেই কবে হাঁটতে শুরু করেছি।
সুন্দরী নীল তারার টিপ নড়ে গেছে। উত্তর আধুনিক কবিতার আশায় তার বাঁ চোখে কাজল টানাই হয়নি। এক ভ্যাবাগঙ্গারাম কবি হাঁটছে, অথচ পৌঁছতে পারছে না।
পাগল ফাগুন হাওয়াতে নীল তারার বুকের আঁচল বারবার বেসামাল হয়ে যাচ্ছে।
আজন্ম এই ব্যর্থ কবি, ভালো করে পাঁচালিই লিখতে শিখল না ;সে আধুনিক, উত্তর আধুনিক কবিতার জন্ম দিয়ে নীলতারাকে কী ভাবে ছোঁবে ? তার ওষ্ঠের নিবিড়ে নামবে কবে?
বেলা ফুরিয়ে আসছে যে!
আরণ্যক বসু
কোলকাতা
আরশিকথা সাহিত্য
১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

