আরশি কথা

আরশি কথা

No results found
    Breaking News

    আই কার্ড এর ভাগ্য ।। ছোট গল্প ।। ইয়াশিকা ঘোষ ।। আরশিকথা সাহিত্য

    আরশি কথা

    ক্লাস তো ভাই সবাই দেখেছো,কিন্তু আমাদের ক্লাসের মত ইন্টারেস্টিং ক্লাস তোমরা কখনো দেখনি।  সত্যি কথা বলতে কি,  কাউকে বকা খাইয়ে যে মজা নেওয়া যায় সেই ব্যাপারে সবাই একদম সুর পন্ডিত ছিল। 

    আর আর চিন্টু ছিল সেই পন্ডিত দলের সর্দার।  কারোর সঙ্গে ঝগড়া করার পর বলতে কি জানো?  "ফিল্ড আইসি কদ্দুর জল খাইয়া লই", 'শক্তি লাগে'।  ও ছিল আমাদের ক্লাসের "খিলখিল এক্সপ্রেস"।  বেশ ছোট বয়সে ওর সাথে দেখা "টাপুর টুপুর পাঠশালায়"।

    দেখতে দেখতে ক্লাস  এইটের এনুয়াল পরীক্ষা শেষ।  এখন আমরা এখন আমরা ক্লাস নাইনে , অনেকদিন ছুটি কাটানোর পর ,নতুন ক্লাসের প্রথম দিনে গিয়ে কি দেখি?  ক্লাসের ফার্স্ট ব্যাঞ্চ এর মধ্যে চিন্টু বসে আছে!  আমি তো দেখে অবাক যে চিন্টু আমাদের ক্লাসে, আমাদের সঙ্গে পড়াশোনা করবে?  ওতো দেখেই সেই ছোট্ট বেলার মত জড়িয়ে ধরে আমার গাল টিপছিল।  এরপর কথায় কথায় আস্তে আস্তে জানতে পারলাম যে ও নাকি আমাদের  "গোবর পোকা একাডেমিতে এডমিশন নিয়েছে"।  এখন থেকেও এখানেই পড়বে।  হাসাহাসি করতে করতে ওর সাথে বেশ মজায় দিন কাটছিল, সাথে পড়াশোনাও ভালো চলছিল।  কিন্তু মজার ব্যাপার হলো স্কুলে একটা জমজমাটি ঘটনা ঘটেছে, তা হচ্ছে চিন্টুর আই কার্ড নিয়ে, আমরা সবাই নতুন আই কার্ড পেয়ে ভীষণ খুশি ছিলাম।  চিন্টু ও অনেক খুশি ছিল আনন্দে বাড়িতে গিয়ে ও আঙ্কেলকে আই কার্ডটি দেখিয়েছিল।  ভালো করে আই কার্ডটি দেখতে গিয়ে আই কার্ডটি আঙ্কেলের হাতে নষ্ট হয়। তাতে ছবির জায়গাটায় নষ্ট হয়ে যায়।

    এবার হচ্ছে আসল শ্রীমতির আগমন, হুম হুম ঠিক ধরতে পেরেছ।  আমি টিটলি ম্যাডামের কথাই বলছি।  আমাদের সবার প্রিয়।  আর আমার ড্রিমগার্ল, যদিও এটা একটা গোপন কথা।  চিন্টু ও বেশ পছন্দ করতো ম্যাডামকে।  খালি দুঃখের বিষয় এটাই যে ক্লাসে এখন পর্যন্ত স্কেলটা দিয়ে পিঠে ঢাকটা বাজায়নি।  ইস একদিন যদি দিত।  একদিন ক্লাস করাতে করাতে ম্যাডামের নজর চিন্টুর আইকার্ডটির উপরে যায়, ও ওর আই কার্ডটি নষ্ট হয়ে যাওয়াতে তার উপর একটি স্মাইলি স্টিকার লাগিয়ে রেখেছিল।  উনি তখন কিছু বলেননি। 

    ফিফ্থ পেরিয়েডে যখন আমাদের কানায় কাকুর জিওগ্রাফি ক্লাস চলছিল তখন ও বাইরে ছিল।  আমাদেরই একটা বন্ধুর সাথে কথা বলছিল।  তারপর দেখি কি ওর সামনে ম্যাডাম দাঁড়িয়ে আছে।  আমি তো কানাই কাকুর ক্লাস ছেড়ে, জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখছিলাম কিন্তু শুনতে পাচ্ছিলাম না কিছু।  ওকে জিজ্ঞাসা করলে পর ও বলে-*আমি কথা কইতাছিলাম ম্যাম আমারে কানে ধইরা টান দিসে", দিয়া কইসে, আমাকে আই কার্ড টা দে আমি পেচুস্যারকে তোর আই কার্ড এর ডিজাইন টা দেখাই। "ক্লাস ছেড়ে গল্প করছিস বড়"।ঘটনার সময়"১লা অক্টোবর, বৃহস্পতিবার দুপুর২:৩৫ ঘটিকা।  দেখতে দেখতে অনেক দিন কেটে গেল, ম্যাডাম অনেকদিন যাবত স্কুলে আসছেন না।  আর চিন্টু স্কুলে ঢোকার সময় রোজ সিকিউরিটির হাতে বকা খাচ্ছে আই কার্ড এর জন্য।  দেখতে দেখতে ফেব্রুয়ারি চলে এলো তখনো আমাদের গ্রাউন্ডে অ্যাসেম্বলি হচ্ছিল।  আর এসেম্বলি শেষে চেক করা হচ্ছিল যে সবাই আই কার্ড পরে আছে কিনা।  আর সেদিন ও আমাদের স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল "শান্তিরক্ষি ম্যাডামের"হাতে পড়ে, ম্যাডাম চোখ বড় বড় করে ওকে জিজ্ঞেস করছে "তোর আই কার্ড কোথায়?" আর ঠিক সেদিনই টিটলি ম্যাডাম স্কুলে এসেছিল।  ম্যাডাম দেখছিল বকা খাচ্ছে কিন্তু উনি সামনে আসেননি, উল্টো পেছন থেকে দাঁড়িয়ে মুচকি মুচকে হাসছিল।  আর ও বকা খাচ্ছে এটা দেখে আমি এবং আমাদের অন্যান্য বান্ধবীরা আর হাসি চাপিয়ে রাখতে পারলাম না।  পুরো অ্যাসেম্বলির মধ্যে ক্লাস সিক্স -এ খিল খিল করে হাসছিল, তাও আবার শান্তিরক্ষী ম্যাডামের সামনে।  ঘটনার সময় ছিল ২২শে ফেব্রুয়ারি সকাল ১০:৩৫ ঘটিকা।  সেদিনই ও স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে, টিটলি ম্যাডামকে ফোন লাগায়, স্টার্টিং ভালো, ম্যাডাম-হ্যাঁ ম্যাডাম বলুন।  চিন্টু-ম্যাম আমার আই কার্ড টা কবে দেবে?  ম্যাডাম-কিসের আই কার্ড ? কার আই কার্ড?  কোন আই কার্ড? 


    পরের দিন ও স্কুলে এসে বলে, কালকে ফোনে ম্যাডামের লগে এমন ঘটনাজানিস নি মেজাজটা নিয়ে এমন গরম হয়, আর এদিকে মা আমারে জ্বালাইতাছে তোর আইকার্ড কই,আইকার্ড কই, কইয়াশাইরা।

    আজ১লা মার্চ।  পরীক্ষার আর বেশিদিন বাকি নেই, চিন্টু স্কুলে এসে বলে, কালকে ম্যাডাম রে ফোন কইরা কইসি ম্যাম ,আই কার্ড?  ম্যাডাম-আই কার্ড?  সেটা তো আমার ব্যাগের লাস্ট চেইনে।  আর ওদিকে চিন্টুর মুখটা দেখার মত ছিল,এত হাসি পাচ্ছিল বলার মত না।  আজ ২রা মার্চ, আর এত দিনে আই কার্ড টা পেচু স্যারের হাতে পৌঁছেছে।  মোদ্দা কথা ওরা গুরু শিষ্যা মিলে ঠিক করে আই কার্ডের কুষ্টিয়া বিচার করেছে।  একেই বোধহয় বলে ভাগ্য।  চিন্টুর ভাগ্যে লেখা ছিল, এই চিলিক মারা রৌদ্রের মধ্যে আই কার্ড এর জন্য পুরো একটা পিরিয়ড দাঁড়িয়ে থাকা।  অপরদিকে আই কার্ডের ভাগ্যে ছিল, টিটলি ম্যাডামের ব্যাগের লাস্ট চেনে আরাম করে অনেকদিন যাবত ঘুমানো।  আমি তো আবার ভোজন রসিক বাঙালি, তাই চিপস খেতে খেতে গল্পটা সুন্দর করে ডাইরিতে না লিখে শান্তি পেলাম না।  উপরেওপরি খিল খিল করতে করতে পেটটাও প্রচন্ড ব্যথা করছিল।  শেষমেষ ১৫ই মার্চ ক্লাস  নাইনের অ্যানুয়াল পরীক্ষার শেষ দিন হলেও চিন্টুর হাতে আই কার্ডটা এসেছিল।


    ইয়াশিকা ঘোষ

    শ্রেণী-নবম

    শ্রী শ্রী রবি শংকর বিদ্যামন্দির আগরতলা




    আরশিকথা সাহিত্য 

    ৩রা মে ২০২৬

     

    3/related/default