শহরের কোলাহল থেকে বহু দূরে, সবুজে মোড়া শান্ত গ্রাম কৃষ্ণপুর। সেখানেই বাবা-মার সঙ্গে থাকত মিষ্টি। ছোটবেলা থেকেই সে ছিল নীরব ও অন্তর্মুখী। সহজে কারো সঙ্গে মিশতে পারত না, তাই বন্ধুবান্ধবও ছিল হাতে গোনা। তার দিন কেটে যেত বইয়ের পাতায় আর বাড়ির পাশের বাগানে একা একা হাঁটাহাঁটিতে। নিঃসঙ্গতাই যেন তার পরিচিত সঙ্গী।
একদিন বিকেলে বাগানে হাঁটতে গিয়ে মিষ্টির চোখে পড়ে একটি ছোট কুকুরছানা—ভীত, ক্ষুধার্ত আর অসহায়। মায়া ভরে ওঠে তার মনে। সে কুকুরছানাটিকে কোলে তুলে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং নাম রাখে টমি। টমি আসার পর মিষ্টির জীবন ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে। টমির সঙ্গে খেলতে খেলতে সে হাসতে শেখে, কথা বলতে শেখে। টমিই হয়ে ওঠে তার প্রথম সত্যিকারের বন্ধু, যে নিঃশব্দে তার একাকিত্ব ভেঙে দেয়।
কিন্তু সময়ের স্রোত থামে না। কয়েক বছর পর টমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা যায়। প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে মিষ্টির পৃথিবী আবার ফাঁকা হয়ে যায়। সে নিজেকে গুটিয়ে নেয়, আগের মতোই চুপচাপ ও অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে। মেয়ের এই পরিবর্তন বাবা-মায়ের চোখ এড়ায় না। তারা বুঝতে পারেন, মিষ্টির জীবনে আবার ভালোবাসার স্পর্শ দরকার।
একদিন তারা বাড়িতে নিয়ে আসেন আরেকটি কুকুরছানা—চঞ্চল, উচ্ছল আর আদুরে। মিষ্টি প্রথমে একটু দ্বিধায় থাকলেও ধীরে ধীরে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সে নতুন বন্ধুর নাম রাখে রকি। রকির উচ্ছ্বাস আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা মিষ্টির মনে নতুন আলো জ্বালায়। সে আবার হাসে, খেলতে শেখে, এমনকি মানুষদের সঙ্গেও মিশতে শুরু করে।
মিষ্টি বুঝতে পারে, নতুন সম্পর্ক পুরোনো কষ্ট মুছে দেয় না, কিন্তু তা বয়ে চলার শক্তি দেয়। বন্ধুত্ব আর ভালোবাসাই জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। রকির সঙ্গে নতুন করে শুরু হয় তার জীবনের আরেকটি সুন্দর অধ্যায়।
বিজয়িনী ভট্টাচার্য্য
নবম শ্রেণী
শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর বিদ্যামন্দির
আগরতলা
আরশিকথা সাহিত্য
৩রা মে ২০২৬

.jpg)
