নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
প্রতি বছর ৩০ জুন ‘হুল দিবস’ পালিত হয়। ১৮৫৫ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, অত্যাচারী জমিদার ও মহাজনদের শোষণের বিরুদ্ধে সিধো, কানহু, চাঁদ ও ভৈরব মুর্মুর নেতৃত্বে সংঘটিত ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের স্মরণে এই দিনটি পালিত হয়। সাঁওতালি ভাষায় 'হুল' শব্দের অর্থ বিদ্রোহ বা বিপ্লব। এদিন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাঁওতাল বিদ্রোহের কিংবদন্তি নায়কদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এদিন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'এক্স'-এ (X) দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, হুল দিবস আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সেই অটল মানসিকতার প্রতিফলন, যারা দেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিলেন। তিনি ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহের সেই সব অবিস্মরণীয় নেতা—সিদো, কানহু, চাঁদ, ভৈরব, ফুলো এবং ঝানো—কে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তাঁদের নির্ভীক প্রতিরোধের জন্য স্মরণ করেন। নরেন্দ্র মোদী বলেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের মর্যাদা, পরিচিতি ও সম্মান রক্ষায় এই বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ আজও প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁদের সেই সংগ্রাম দেশের জন্য শক্তি ও দেশপ্রেমের এক অবিরাম উৎস হয়ে রয়েছে।একই ভাবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সাঁওতাল বিদ্রোহের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন যে, তাঁদের সাহস, আত্মত্যাগ এবং আত্মবলিদান সকল ভারতবাসীর জন্য চিরস্থায়ী অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। 'এক্স' (X)-এ দেওয়া এক বার্তায় রাষ্ট্রপতি সিদো, কানহু, চাঁদ, ভৈরব, ফুলো, ঝানো এবং সাঁওতাল হুল-এর অগণিত অংশগ্রহণকারীদের প্রতি সম্মান জানান। আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর শোষণ রুখতে এবং নিজেদের পরিচিতি ও অধিকার রক্ষায় ঐতিহাসিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি তাঁদের এই সম্মান জানান। তিনি বলেন, তাঁদের অসাধারণ সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ জাতির জন্য এক পথপ্রদর্শক দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।প্রতি বছর ৩০শে জুন পালিত 'হুল দিবস' ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল হুল বা বিদ্রোহের স্মৃতি বহন করে, যা ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রথম সংগঠিত গণ-অভ্যুত্থান। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের আগেই সংঘটিত এই আন্দোলনকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হয়।
akb tv news
30.06.2026

