নাবালিকা ছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিওর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করার অপরাধে অধীর
চন্দ্র দাস নামে এক গৃহ শিক্ষককে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। শুক্রবার
উদয়পুরের স্পেশাল জুডিশিয়াল আদালতের বিচারপতি
রবি ধাইয়া পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬(২)(n) ধারায় দোষী সাব্যস্ত
করে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত অধীর চন্দ্র দাস রাধাকিশোরপুর থানার রাজনগর
এলাকার বাসিন্দা এবং ভগিনী নিবেদিতা উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিল। মামলার
বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালে উদয়পুরের এক নাবালিকা ওই শিক্ষকের কাছে বাংলা ও এডুকেশন
বিষয়ের টিউশন নেওয়া শুরু করে। একদিন টিউশনে যাওয়ার পথে অধীর তাকে ফুসলিয়ে ব্রম্মাবাড়িতে
নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং জলখাবারের সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে খাইয়ে জোরপূর্বক
ধর্ষণ করে। সেই আপত্তিকর দৃশ্যের ভিডিও মোবাইলে রেকর্ড করে রেখে শুরু হয় চরম ব্ল্যাকমেইলিং।
ভিডিওর ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন নির্জন জায়গায় ও জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে লাগাতার শারীরিক নির্যাতন
চালানো হতো। এমনকি নাবালিকাকে জোরপূর্বক সিঁদুর পরানো এবং ঘটনা জানাজানি হলে তার বাবা
ও ভাইকে খুন করার হুমকিও দেওয়া হয়।পরিবারের সুরক্ষার কথা ভেবে দীর্ঘদিন নীরব থাকার
পর, ২০২১ সালে নির্যাতিতা ও তার পরিবার রাধাকিশোরপুর মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের
করে। মামলার তদন্তকারী অফিসার সাব ইন্সপেক্টর রিপিতা ভট্টাচার্য্য দক্ষতার সাথে তদন্ত
শেষ করে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করেন এবং আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।মামলা চলাকালীন
আদালত মোট ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে আদালত এই কঠোর
রায় প্রদান করে। সরকারি পক্ষের স্পেশাল পকসো আইনজীবী পল্টু দাস জানান, একজন শিক্ষকের
এমন নৃশংস ও সমাজবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে তারা কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন; এই
রায়ে নির্যাতিতা পরিবার অবশেষে ন্যায়বিচার পেল। আদালতের এই যুগান্তকারী রায়ে উদয়পুরের
সচেতন মহলে স্বস্তির হাওয়া মিলেছে এবং সাধারণ মানুষের মতে, এই শাস্তি সমাজে অপরাধীদের
কাছে একটি কড়া বার্তা পৌঁছাবে।
akb tv news
19.06.2026

