নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
আগামীকাল বাঙালির অন্যতম পারিবারিক উৎসব জামাইষষ্ঠী। আষাঢ় মাসে ষষ্ঠী তিথি
পড়ায় প্রথমে কিছুটা সংশয় থাকলেও পণ্ডিতদের মতে ব্রত পালনে কোনও বাধা নেই। সেই সংশয়
কাটতেই এখন শ্বশুরবাড়ি গুলিতে শুরু হয়েছে অন্য চিন্তা—জামাই বাবাজির পাতে
কী বিশেষ পদ পরিবেশন করা হবে? বাঙালির উৎসব আর মাছ—এই দুই যেন একে অপরের পরিপূরক। আর মাছের কথা
উঠলেই সবার আগে আসে ‘মাছের রাজা’ ইলিশের নাম। তাই জামাইকে খুশি করতে অনেক শ্বশুর-শাশুড়িরই
প্রথম পছন্দ ইলিশ মাছ।তবে এবারের জামাই ষষ্ঠীর আগে ইলিশের জোগান ও দাম নিয়ে কিছুটা
উদ্বেগ ছিল। বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং দুই দেশের বর্তমান
বাণিজ্যিক পরিস্থিতির কারণে বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয়
দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বটতলা বাজারের মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, বৈধ ও অন্যান্য উৎস মিলিয়ে
বাংলাদেশের চাঁদপুর, মেঘনা, পদ্মা ও যমুনা নদীর ইলিশ বাজারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি সংরক্ষিত
বা স্টোর করা ইলিশও বেশ ভালই মজুদ আছে।তবে জোগান থাকলেও দাম মধ্যবিত্তের নাগালের কিছুটা
বাইরে। ব্যবসায়ীদের মতে, ১ কেজি ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের তাজা ইলিশের দাম প্রায়
২,২০০ টাকা কেজি। ১ কেজি ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশের দাম ২,৪০০ টাকা কেজি পর্যন্ত
উঠেছে। অন্যদিকে, সংরক্ষিত ইলিশের ক্ষেত্রে এক কেজির বেশি ওজনের মাছ ১,৫০০ টাকা কেজি
এবং এক কেজির কম ওজনের মাছ ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।ব্যবসায়ীরা
অবশ্য ক্রেতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, কিছু অসাধু বিক্রেতা
সার্ডিন মাছকে ইলিশ বলে বিক্রির চেষ্টা করেন। তাই মাছ কেনার সময় ভালোভাবে দেখে নেওয়ার
পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।রসনাতৃপ্তির পাশাপাশি ইলিশের পুষ্টিগুণও কম নয়। বিশেষজ্ঞদের
মতে, ইলিশে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসহ নানা উপকারী উপাদান, যা শরীরের জন্য উপকারী।
ফলে স্বাদ ও পুষ্টি—দুই দিক থেকেই ইলিশের কদর আলাদা।এখন প্রশ্ন একটাই—জামাইষষ্ঠীর ভোজে
কার পাতে উঠবে রুপোলি ইলিশ, আর কার ভাগ্যে জুটবে কাতলা বা রুই? উত্তর মিলবে আগামীকাল
জামাই আপ্যায়নের উৎসবের দিনেই।
akb tv news
19.06.2026

