উত্তরপূর্বের গল্প চর্চার অন্যতম পরিসর ‘গল্পের জন্য’র উদ্যোগে আগরতলার সুকান্ত একাডেমিতে ৭ই জুন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সারাদিন ব্যাপী এক ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘গল্প-গদ্য পরিক্রমা’। সকাল থেকে সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত মানুষ তখনও সিরিয়াস আলোচনা মুগ্ধ হয়ে শুনছেন। শহর আগরতলার শ্রোতা যে গল্প নিয়ে এমন বিদ্যায়তনিক আলোচনা শুনতে বেশ পছন্দ করেন তা আবারও পরিচয় পাওয়া গেল এদিন দর্শকাশন দেখে। আগরতলার বাইরেও রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় শতাধিক লেখক-গল্পকার এদিন উপস্থিত ছিলেন।
সকালে সাড়া জাগানো এসো গল্প লিখি প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শুরু, তাতে অংশগ্রহন করেন রাজধানীর বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে আগত আগ্রহী শিক্ষার্থীরা। সকাল ১১টায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের পর সুরঝর্ণার শিল্পীবৃন্দের উদ্বোধনী সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের রাজ্য ভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য। উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন গল্পের জন্য'র সভাপতি বর্ষীয়ান গল্পকার দুলাল ঘোষ।এই অনুষ্ঠানেই কয়েক দশক বাদে আবার প্রকাশিত হয় নতুন গল্প ও গদ্যের পত্রিকা 'গল্পিক', যা নিয়ে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে পাঠক মহলে। উত্তরপূর্বাঞ্চলের গল্প চর্চায় দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এদিন বিশিষ্ট গল্পকার মাধুরী লোধ এবং সুনীল দেববর্মাকে 'গল্পের জন্য সম্মাননা ২০২৬' প্রদান করা হয়।
পরবর্তীতে গল্পে আমাদের কথা, অসমীয়া, ককবরক, মণিপুরী ও চাকমা ভাষার গল্প, গল্পকার জীবনে প্রতিকূল পরিবেশ ও সর্বশেষ পর্বের বিষয় ছিল গত পঁচিশ বছর : বাংলা সমালোচনা সাহিত্যের অভিমুখ শীর্ষক আলোচনায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচকেরা অংশগ্রহণ করেন। অসাধারণ কিছু সংগীত পরিবেশন করেন — শিল্পী পূর্ণি বসু , অরিজিতা ধর, তনুময় বিশ্বাস, দেবযানী ভট্টাচার্য, বাদল চক্রবর্তী এবং মৌরিতা রায়। গল্প পিপাসু ও সাহিত্যপ্রেমীদের বিপুল উপস্থিতিতে সারাদিনব্যাপী এই আয়োজন সার্বিকভাবে সফল হয়েছে। গল্প চর্চার ধারাবাহিকতায় এভাবেই আগামীদিনেও প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়।
আরশিকথা ত্রিপুরা সংবাদ
৮ই জুন ২০২৬




.jpeg)