আরশি কথা

আরশি কথা

No results found
    Breaking News

    ফুড়ুৎ আর পাপানের বিশ্বকাপ ।। ছোট গল্প ।। আরণ্যক বসু ।। আরশিকথা সাহিত্য

    আরশি কথা

    দাদা ফুড়ুৎ এখন আর স্বপ্ন দেখেনা। সেই ছোটবেলার বিচ্ছু, এখন ডাক্তার অপরূপ মিত্র। কিন্তু ওর থেকে ছ'বছরের ছোট ভাই বি-টেকের সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র পাপান,যার ভালো নাম --দুর্বার মিত্র,সে ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখে আসছে।তার রোগ বলো, ব্যারাম বলো সবই হচ্ছে স্বপ্ন দেখা। বিশ্বকাপ শুরু হতে না হতেই ওদের ফুটবলদাদু মোহিনী মিত্র আর ঠাম্মি সুজাতা মিত্র ফটো থেকে মাঝে মধ্যেই স্বপ্নে ফুটবলের ছড়া শোনান। অন্তত স্বপ্নে পাপান এগুলো খুব দেখে। আর অদ্ভুত ব্যাপার প্রথম রাত,মাঝ রাত, ভোর রাতের সব স্বপ্নই ওর মনে থাকে। যেমন উত্তর বাংলার অতীতের দুর্ধর্ষ সেন্টার-ফরোয়ার্ড দাদু মোহিনী মিত্র,পাপান যখন ফাইভ -সিক্সে পড়ে, তখন দেওয়ালের  ছবি থেকে একটা ছড়া কেটে ছিলো তাঁদের সময় ফুটবল মাঠ কেমন ছিল তাই নিয়ে। পাপনের খুউব মনে আছে --

    মাঠে জল ছিল, জলে কাদা ছিল,

    আর ছিল নীলাকাশ:

    পাড়া ফুটবলে মাখামাখি ছিল

    মুঠো মুঠো ঝুরো ঘাস।

    সারা বছরের সঙ্গী বলতে টিকটিকি, হাঁচি, কাশি, খেলতে খেলতে ঠিক শুনতাম কৃষ্ণকালার বাঁশি।

    ড্রিবলিং ছিল, ডিগবাজি ছিল,

    সোনা সোনা রোদ্দুরে:

    মেঘের ছানারা হাততালি দিলে

    হাওয়াতে যেতাম উড়ে।

    মারামারি ছিল, গুঁতোগাঁতা ছিল,

    সন্ধে পেরিয়ে গেলে:

    সেই সময়েই আগলে রাখতো ইউসোবিও --পেলে।

    ব্যাকভলি ছিল, ভুল পাস ছিল,

    গোল মিস করে হাসি:

    গো-হারানে ছিল ইট-পাটকেল,

    জিতলে মাংস খাসির।

    ঠাম্মি চুপচাপ থাকলেও দাদু ভীষণ মজার। এই ধরোনা, ২০২৬ এর বিশ্বকাপ শুরু হতেই, দাদু ফিসফিস করে স্বপ্নে বলে দিয়েছে-- মেসি মেসি এখনো মেসি । ওদিকে সেই ছোট্ট পাপান'তো এখন রীতিমতো ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া দুর্দান্ত যুবক। দাদা ডাক্তার যখন সেও ইঞ্জিনিয়ার হবে। যদিও দাদুর প্রিয় দল ছিল ব্রাজিল। পাপানের বাবা একজন শিল্পী। তার আবার পছন্দ আর্জেন্টিনা। স্কুলের দিদিমণি মায়ের--জার্মানি। দাদা আপাতমস্তক বেলজিয়াম। শিল্পী বাবা যখন ছবি আঁকার জন্য নেদারল্যান্ডের রাজধানী আমস্টারডাম আর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে গিয়েছিল, তখন একটা মজার গল্প বলেছিল। আমস্টারডাম থেকে প্যারিসে ইউরেলে যাওয়ার সময় একটা গোটা ছোট দেশ মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে পেরিয়ে গিয়েছিল। সেটা বেলজিয়াম।রাজধানী ব্রাসেলসে ট্রেনটা থেমেছিল। পরে প্যারিসে পৌঁছে বড় ছেলে ফুড়ূৎকে ফোন করে বলেছিল-- এই পাগলা, তোর ফুটবলের স্বপ্নের দেশ বেলজিয়াম ট্রেনে করে তিন ঘণ্টার মধ্যে পেরিয়ে গেলাম রে।দাদার কাছ থেকেই বেলজিয়ামকে ভালোবাসতো শেখা পাপানের। আর বেলজিয়াম মানেই তাদের  অধিনায়ক এডেন অ্যাজার। বড় হয়ে যাওয়া ফুড়ুৎ আর স্কুলে পড়া পাপানের সে কি উত্তেজনা! পাপান বলেই ফেলেছিল-- বাবা, তুমি এডেন অ্যাজারকে দেখতে পেয়েছিলে? বাবা বলেছিল --কোথায়? ওই যে বললে বেলজিয়ামের রাজধানী  ব্রাসেলসে ট্রেনটা থেমেছিল? তখন উনি স্টেশনে এসেছিলেন না? কথা শুনে বাড়ির সকলের সে কি হাসি? সঙ্গে সঙ্গে মা মনে করিয়ে দিল পাপানের তিন বছর বয়সের একটা ঘটনা। আর তাই নিয়ে দাদা ফুড়ূৎ এর দুষ্টুমি। ড্রয়িং-রুমে শিশু পাপান আর কিশোর ফুড়ুৎ প্লাস্টিকের হলুদ কালো ফুটবল নিয়ে দাপাদাপি করছিল। হঠাৎ সোফা থেকে পড়ে গিয়েছিল পাপান।মেঝেতে ঠুকে গিয়েছিল পাপানের কপাল। রক্ত বেরোয়নি, কিন্তু কপালটা ফুলে আলু হয়ে গিয়েছিল। সেদিন রবিবার, মা--বাবা দুজনেই বাড়িতে। তাড়াতাড়ি করে জলপট্টি দেওয়া, বরফ ঘষা,ওষুধ লাগানো ;

    এর মাঝখানেই হঠাৎ দাদা ফুড়ুৎ ভাইকে খ্যাপানোর জন্য ফোড়ন কেটেছিল-- এ বাবা,তোর কপালটা ফুলে আলু হয়ে গেছে। পড়ে গিয়ে যত না কান্না কেঁদেছিল পাপান, কপাল ফুলে আলু হয়ে গেছে শুনে , ওর কান্না দ্বিগুণ বেড়ে গেল। সমানে কাঁদছে  আর বলছে-- উলি বাবালে,আমাল কপালতা ফুলে আলু হয়ে গেল রে। মা থামাবার জন্য দৌড়ে এসে বলল -- আলু হয়নি পটল হয়েছে। পাপান আবার বললো -- সত্যি বলছো তো ? আলু হয়নি তো, পতল হয়েছে তো?  দাদা রাগিয়ে দেওয়ার জন্য আবার বলল -- না রে ভাই, আলুই হয়েছে। আরো জোরে কাঁদতে কাঁদতে পাপানের আবার সেই এক কথা -- উলি বাবালে, পতল হয়নি, আলু হয়েছে। বাবা এবার এসে বললো -- আলু হয়নি, সত্যি বলছি ঝিঙে হয়েছে। একটু খুশি হওয়া পাপান কাঁদতে কাঁদতে বলল-- সত্যি বলছো ঝিঙে হয়েছে, আলু হয়নি তো? 

    তারপরে অনেকগুলো  বছর কেটে গেলেও আজও মা, বাবা,দাদা পাপানবাবুর ভুলগুলো নিয়ে ক্যাচ লোফালুফি করে। মা প্রায়ই বলে--তোর বউ এলে তাকেও এই গল্পটা শুনিয়ে দেব।

      হইহই করে বিশ্বকাপ ঢুকে পড়লো ওদের এই দক্ষিণ কলকাতার বাড়ির মধ্যে। চওড়া রাস্তা পেরোলেই ঢাকুরিয়া লেক। রথের মেলা পেরিয়ে গেলেই কদম ফুলের গন্ধ আসবে, তারপর ছাতিম ফুল পেরিয়ে পাপান আর ফুড়ুৎদের পাড়ায় যখন শিউলির গন্ধ ঢুকবে,তখন বিশ্বকাপ ফাইনাল অতীত হয়ে গেছে। ইউরোপ বা লাতিন আমেরিকা,কারা জিতবে? মেসি না এমবাপে? না ইয়ামাল? না কী হ্যারি-কেন?কে জিতবে গোল্ডেন বুট আর গোল্ডেন বল? এইসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই বিশ্বকাপের আটচল্লিশটা টিম থেকে বত্রিশে নেমে এলো। এবার নকআউট। বত্রিশ থেকে ষোলোতে নামবে, ষোলো থেকে আট, তারপর আট থেকে চার, চার থেকে দুই! তারমানেই তো ফাইনাল। উফ্ উত্তেজনা চেপে রাখা বড্ড মুশকিল। দাদা তবুও গম্ভীর মুখের ডাক্তার হয়ে গেছে, কিন্তু পাপান তো এখনো ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের স্টুডেন্ট। একটা ব্যাপারে  আজো দুই ভাই-ই সমান জায়গাতে অবস্থান করছে। ওদের আদর্শ টিম বেলজিয়াম। ইস ভগবানকে  ডেকেও যদি বেলজিয়ামকে চ্যাম্পিয়ন করা যেত? সেদিন কি হয়েছে জানো? ষোলো থেকে আটে নামার নকআউটের খেলায় বেলজিয়াম মুখোমুখি হয়েছিল আমেরিকার। শেষ পর্যন্ত দুর্ধর্ষ খেলে বেলজিয়াম হারিয়ে দিল আমেরিকাকে। আর তাই দেখে মাঝরাত্তিরে দুই ধেড়ে ছেলের সে কি নাচ! সারা পাড়া জেনে গিয়েছিল বেলজিয়াম জিতেছে, এত জোরে চিৎকার করছিল ওরা!  আজ রাতে কোয়াটার ফাইনালে মুখোমুখি বেলজিয়াম আর স্পেন। সারাদিন শরীরের মধ্যে গুডগুড় করছে পাপানের। পড়াশোনা সব মাথায় উঠেছে।শিল্পী বাবা ওকে বোঝায়--এই পাপান,তুই তো প্রাক্তন ফুটবল খেলোয়াড় দাদুভাইয়ের সঙ্গে স্বপ্নে অনেক গালগল্প করিস।দাদুভাইকে একটা কথা বলবি --তোমার ছেলে বলছিল, বেলজিয়ামের এক পাশে নেদারল্যান্ড অন্য পাশে ফ্রান্স। নেদারল্যান্ড দু -দুবার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছে --১৯৭৪ এবং ১৯৭৮ এ। আর ফ্রান্স দুবার বিশ্বকাপ জিতেছে। কিন্তু মাঝখানের এই ছোট্ট দেশটা ফুটবলে এত প্রতিভাধর হওয়া সত্বেও একবারও ফাইনালে আজ পর্যন্ত  যেতে পারলো না কেন? যুবক ডাক্তার ফুড়ুৎবাবু অনেক ছোট ভাইকে জড়িয়ে ধরে বলল --আমাদের দল বেলজিয়াম কিছুদিন আগেও ওয়ার্ল্ড রাঙ্কিং এ দু'নম্বরে ছিল। এখন নয় নম্বরে। তুমি দেখে নিও বাবা, বেলজিয়ামে এবার অঘটন ঘটাবেই। ভাই,তুই বরঞ্চ দাদুভাইকে জিজ্ঞাসা করিস তো,আমাদের এই একশো চল্লিশ কোটির দেশ কবে বিশ্বকাপ খেলবে? এখানে তো সবাই,ফুটবল বলতে পাগল। হকি -ক্রিকেটে আমরা যে বারবার বিশ্বসেরা হয়েছি, সেটা ফুটবলে প্রমাণ করতে পারছি না কেন? অবশ্যই দাদুভাইকে স্বপ্নে জিজ্ঞাসা করবি। দেখবি দাদুভাই যেন উত্তর না দিয়ে মিলিয়ে না যায়। স্বপ্নটাকে চোখের পাতায় ফেভিকল দিয়ে আটকে রাখবি।

       বিশ্বকাপ ফুটবল মানে   প্রতিদিন রাতে বা ভোরবেলায় ফুটবল নিয়ে কী ধুন্ধুমার - উস্তুম-মুস্তুম কান্ড। পাড়াভর্তি  আর্জেন্টিনা,ফ্রান্স, স্পেন, ব্রাজিলের পতাকা। আর মোড়ে মোড়ে মেসি,রোনাল্ডোর আর এমবাপের কাট-আউট। পাড়ার ছেলে -মেয়েরা পাশে গিয়ে পটাপট সেলফি তুলছে। সেদিন রাতে নক আউট পর্যায় বেলজিয়ামের খেলা। অথচ দাদার সেদিন হাসপাতাল ডিউটি। বাবার একটু জ্বর -জ্বর। ওষুধ খেয়ে শুয়ে পড়েছে। পাপানবাবু টিভির সামনে সোফায় একটা ছোট বালিশ নিয়ে ভাবল --এই একটু ঘুমোই,ঠিক সময়সময় জেগে যাবো,বলে স্মার্টফোনে এলার্ম দিয়ে চোখের  পাতা বুজেছে কী বোজেনি, মনে হল ঘাড়ে হাত দিয়ে কেউ ডাকছে। ঘর অন্ধকার,খেলা এতক্ষণে শেষ হয়ে গেছে? কি হলো রেজাল্ট? মোবাইলের টর্চটা জ্বেলে, দাদু- দিদার ফটোর উপর ফেলতেই দাদু ফিক করে হেসে ফেলল--তোর দাদাকে বলিস, একশো চল্লিশকোটির দেশে ফুটবল খেলোয়াড়ের প্রতিভার অভাব নেই। অভাব যেটা আছে সেটা হল --ছোট থেকে ফুটবলারদের রক্ষণাবেক্ষণ। উপযুক্ত ট্রেনিং। জার্মান,স্পেন, ইংল্যান্ডের একাডেমির সঙ্গে যুক্ত করা। তাদের সঙ্গে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলা।সেখান থেকে যে ছাঁকাছাঁকা খেলোয়াড় তৈরি হবে তারা দেখিস, আগামী কুড়ি বছরের মধ্যেই ভারতকে প্রথমে এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন করবে, তারপর বিশ্বকাপ খেলতে যাবে। ১৯৫০ সালে আমরা পারিনি টাকার অভাবে, আর খালি পায়ে খেলতাম বলে। কিন্তু আমি, যাঁদের খেলা দেখেছি, সেই চুনি, পিকে, বলরাম, অরুণ ঘোষ, জার্নাল সিং,প্রশান্ত সিনহা,থঙ্গরাজ,প্রদ্যোৎ বর্মন, রামবাহাদুর-- এঁনারা সবাই মিলে কোচ রহিম সাহেবের নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে এশিয়ার সেরা হয়েছিলেন। সেই কোরিয়া ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলছে, আর আমাদের আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকেছে। ফুটবল একাডেমিতে দুনিয়ার সেরা কোচ এর কাছে উপযুক্ত কোচিং, পড়াশোনা, সুষম খাওয়া-দাওয়া এবং আধুনিক জিমন্যাসিয়ামের ব্যবস্থা করতে পারলেই ভারতবর্ষের ফুটবলে- বিরাট, রোহিত,শচীন কপিলদেব, ধনী,বুমরা এইসব অসাধারণ ক্রিকেটারদের মতো অসাধারণ ফুটবলাররাও এই দেশের মাটিতেই গড়ে উঠবে। আমাদের দেশের একটা বিরাট বড় প্লাস পয়েন্ট কি জানিস --ভারতবর্ষ কখনো কোন দেশকে দখল করে সেখানে শাসন চালায়নি, তাই আমাদের ফুটবল দলের এগারো জনই খাঁটি ভারতীয়। এটা একটা বিরাট আবেগ। সেই আবেগকে যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি, খেলোয়াড়দের মধ্যে যদি ছোট থেকেই দেশপ্রেম জাগানো যায় তাহলে আমরাও একদিন•••

    বলতে বলতে দাদু ভাইয়ের গলা ধরে এলো--আমি তো তোর স্বপ্নে সেই জন্যেই আসি রে। ভারতবর্ষকে যে জগত সভায় শ্রেষ্ঠ হতেই হবে। ক্রিকেট, হকিতে যখন হয়েছে তখন ফুটবলেও হবে। অস্থির হয়ে পাপানবাবু প্রায় চেঁচিয়ে উঠে বলল --তুমি তো সবই দেখতে পাও,আজকের খেলার রেজাল্ট কি? দাদার ফোন আসছে না। তাহলে বেলজিয়াম কি? দাদুভাই হেসে উত্তর দিল --সব স্বপ্ন মাঠে মারা যায় না রে পাগলা। বেলজিয়াম হারুক বা জিতুক, তারা পৃথিবীর অন্যতম শক্তিধর ফুটবল দলই থাকবে। মাঝখান থেকে তোরা ইউরোপ আর লাতিন আমেরিকা নিয়ে চিৎকার করে আফ্রিকা, এশিয়া আর ভারতবর্ষের দিকে তাকাচ্ছিস না।

    দাদুর কথা শুনতে শুনতে অধৈর্য হয়ে পাপান টিভির রিমোটে চাপ দিয়ে হঠাৎ দেখল --খালি নো সিগনাল,নো সিগন্যাল দেখাচ্ছে। বেলজিয়াম? তাহলে বেলজিয়ামের কী হলো? পাগলের মতো দাদাকে ফোন করতে গিয়ে দেখল দাদার  ফোনের সুইচ অফ। তার মানে দাদা নাইট ডিউটি করছে। বিরক্ত করলে দাদা রেগে যাবে। পাগলের মতোন টিভির সুইচ অফ অন করতে লাগলো। আর ইউরোপের ম্যাপটা বার করে ফুটবলের দুই মহাশক্তিধর নেদারল্যান্ড আর ফ্রান্সের মাঝখানে বেলজিয়ামকে খুঁজে বার করে, তার ওপর হাত বোলাতে লাগলো। যেন আঙুলের জাদুকাঠির ছোঁয়ায় টিভির বুকে বেলজিয়ামের জয় ফুটে উঠবে। উত্তেজনায় দরদর করে ঘামছে পাপান। বিড়বিড় করে বলছে-- কি হলো? কি হলো বেলজিয়ামের? বলো দাদুভাই, কি হলো বেলজিয়ামের?  চলে যেওনা,তুমিবলে যাও•••.

        পাশের ঘর থেকে উঠে এসে ধাক্কা দিয়ে পাপানকে ঘুম থেকে তুলল মা। এই পাপান,উঠে গিয়ে খাটে শুয়ে পড়, তোকে বোবায় ধরেছে। এরকম করে তো ঘাড়ে ভীষণ ব্যথা হয়ে যাবে তোর। উঠে পড়,উঠে পড়,

    ভোর হয়ে গেছে।

    ধড়ফড় করে উঠে বসে পাপান। মা,ওমা,বেলজিয়ামের খেলার রেজাল্ট কি হল গো?

    আলতো করে মাথায় হাত বুলিয়ে মা বলল --

    আরেকটু ঘুমিয়ে নে বাবা, একটু পরে কলেজ যেতে হবে।


     আরণ্যক বসু 


    আরশিকথা সাহিত্য


    ছবিঃ সৌজন্যে ইন্টারনেট

    ১৯শে জুলাই ২০২৬



     

    3/related/default