আগরতলা শহরে অটো ও ই-রিক্সার রীতিমতো সন্ত্রাস চলছে। পরিবহন, ট্রাফিক ও পুর নিগম কারোর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই এগুলির উপর। অভিযোগ আগরতলা শহরে যে অটো গুলি চলছে তার অধিকাংশই রোড পারমিট মানছে না। খয়েরপুর বাইপাস আমাতলি , সেকেরকোট - মধুপুর কিংবা ফুলতলি , রাধানগর - নাসিংগাড়, জিবি - নাসিংগাড়, বটতলা - সেকেরকোট , বটতলা - ক্যাম্পেরবাজার ইত্যাদি বিভিন্ন রুটের অটো দাবিতে বেড়াচ্ছে শহরের প্রাণ কেন্দ্রে।
মূলত নাগেরজলা- চন্দ্রপুর -রাধানগর এলাকার মধ্যেই এদের চলাচল। জিজ্ঞাসা করা হলে আটো চালকদের উত্তর এখন নাকি রোড পারমিটের দরকার লাগে না। কেউ আবার বলেন, গাড়ি রানিং এর মধ্যে থাকলে রাস্তা থেকে যাত্রী নেওয়া যায়। নয়তো উবের কিংবা রেপিডোতে ট্রিপ দিচ্ছেন । নয়তো রিজার্ভ ট্রিপ দিচ্ছেন। নানান অজুহাতে শহরে দিব্যি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন রুটের আটো চালকরা শহরের মধ্যে ট্রিপ দিচ্ছেন। ট্রাফিক, পরিবহন দপ্তর, আগরতলা পুর নিগম কারোর কেনও নিয়ন্ত্রণ নেই অটোর উপর।
মূলত নাগেরজলা কিংবা বটতলা থেকে জিবি, রাধানগর, চন্দ্রপুর, মোটরস্ট্যান্ডের মধ্যেই চলাচল করছে সহস্রাধিক অটো। এর ফলে শহরে যানট লেগে থাকছে। মোটর শ্রমিকদের সংগঠনগুলির তরফেও এনিয়ে কোনও শব্দ নেই। এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে ইলেকট্রিক অটে। গোটা শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এগুলি। একাংশ উঠতি বয়সের ইলেকট্রিল অটো চালক মানছে না কোনো রকম ট্রাফিক বিধি। এদিকে পরিবহন দপ্তর ব্যাপক হারে অটো ও ই-রিক্সার রেজিস্ট্রেশন দিচ্ছে। অবৈধ ভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। এগুলি কোথায় চলবে, রাস্তায় নেমে পড়লে এর কোনও প্রভাব যাতায়াত ব্যবস্থার উপর পড়বে কিনা, সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের উপর এর কী প্রভাব পড়বে-তা নিয়ে কোনও ভাবনা নেই প্রশাসনের।
ট্রাফিক পুলিশ ব্যস্ত দ্বি চক্র যান চালকদের কাছ থেকে ফাইন আদায় করতে ও কেস ফাইল করতে। সাধারণ মানুষের তরফে বর্ধিত পুর নিগম এলাকায় বিভিন্ন রুটে একাংশ অটো ও ইরিক্সাকে চলাচলে বাধ্য করার দাবি উঠেছে। প্রয়োজনে এই বিষয়ে পরিবহন দপ্তর ও পুর নিগম যৌথভাবে আইন প্রণয়ন করতে পারে। আর যদি তাতে লাগাম টানা নাহয় তাহলে শহরে যানজটের সমস্যা কখনোই কমবে না বলে সাধারণ মানুষের অভিমত।
আরশিকথা ত্রিপুরা সংবাদ
১৬ই জুলাই ২০২৬

