সীমান্তে সুরক্ষার জন্য কাঁটা তারের বেড়া এখন সংস্কারের এভাবে জরাজীর্ন অবস্থায় রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সীমান্তের দেড়শো গজ ভিতরে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও সীমান্ত অপরাধ কমেনি। বরং এদেশের মানুষ নিজ নিয়মের গাঁড়াকলে আটকে পড়েছেন। সময়মতো কিংবা প্রয়োজন মতো তারা কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে নিজের জমিতে যেতে পারেন না।
প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যায় দুর্বত্তরা বেড়ার ওপারে ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছে। মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকেরই অভিমত বিএসএফকে কাঁটা তারের বেড়ার ওপারে প্রহরায় রাখা হোক। অভিযোগ কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পর সীমান্তে পাচার বাণিজ্যে মোটেও লাগাম টানা যায়নি। মনিব পাচার, গরু পাচার থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সবই পাচার হচ্ছে। বিশালগড়, সোনামুড়া,বিলোনীয়া, খোয়াই, কৈলাসহর সীমান্ত দিয়ে মানব পাচার, গরু পাচার থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সবই পাচার হচ্ছে। মহকুমাগুলির কথা ছেড়েই দেওয়া যাক। খোদ আগরতলা শহরের সীমান্ত এলাকাতেই কাঁটাতারের বেড়ার বেহাল অবস্থা।
এখন তা দেখে মনে হয় প্রকৃত অর্থে পাচার বন্ধের জন্য কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় প্রকল্পে কিছু অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। লঙ্কামুড়া, শানমুড়া, কালিকাপুর সীমান্ত দিয়ে দেখা যার কোথাও কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে পড়ে আছে। কোথাও বেড়ার মাঝে বিরাট ফাঁক। সর্বত্র কাঁটা তারের বেড়া জঙ্গল আগাছায় ছেয়ে আছে। তাছাড়া কাঁটাতারের বেড়ার উচ্চতা এতটাই কম যে তা দুষ্কৃতীদের পক্ষে ডিঙানো কিংবা এর উপর দিয়ে পন্য পাচার করা মোটেই কঠিন কাজ নয়।
কেন এই বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া সংস্কার করা হয়নি। সীমান্ত সন্ত্রাস, অবৈধ পাচার ও অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে সীমান্তে বেড়া একটা বড় ভূমিকা নিতে পারে। কিন্তু লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করে নির্মিত কাঁটাতারের বেড়া সেই সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিষয়টি নিয়ে গভীর ভাবে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছে। খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শা বিষয়টি দেখছেন। ভবিষতে কি ভাবে এই সমস্যার সমাধান হয় সেটাই দেখার।
আরশিকথা ত্রিপুরা সংবাদ
৯ই জুলাই, ২০২৬

