সরকার বলেছে জেনেরিক মেডিসিনের বিক্রি বাড়াতে। তাতে রোগীদের ওষুধের খরচ অনেকটা কমবে। কিন্তু জেনেরিক মেডিসিনের বিক্রি বাড়াতে গেলে বাস্তবে কি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন তা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল বি ফার্মা এবং ডি ফার্মা পাশ বেকার যুবকদের জেনেরিক মেডিসিনের বাবসা শুরু করার পরামর্শ দেন। কিন্তু জেনেরিক মেডিসিনের ব্যবহার বাড়াতে সরকারের তরফে কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ছে না । তাছাড়া ডাক্তাররা জেনেরিক নাম লেখেন না ব্যবস্থাপত্রে। ডাক্তারদের ওষুধের জেনেরিক নাম লিখতে সরকার কোনওরকম চাপ সৃষ্টি করছে না। এদিকে ডাক্তারদের অনেকেরই বক্তব্য জেনেরিক নাম লিখলে নাকি ওষুধের দোকানীরা ওই কম্পোনেন্টের সবচেয়ে দামী ব্রান্ডের ওষুধটি দিয়ে দেন। তাছাড়া সব কম্পোনেন্টের নাকি দাভা ইন্ডিয়ার অথাৎ জেনেরিক নামে ওষুধ পাওয়া যায় না। জেনেরিক ও ব্র্যান্ডের মেডিসিন নিয়ে এখনও অনেকের মধ্যে একটি ধারণা রয়েছে যে এতো সস্তার ওষুধ এগুলি ভাল হবে না। ব্র্যান্ডেড ওষুধ অনেক দামী, ভাল কাজ হয় । এই ধারণা দূর করতে সরকারের তরফে কোনও উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
জেনেরিকের গুনগত মান যদি নিম্নমানের হয়ে থাকে সরকার তাহলে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু তাও করা হচ্ছে না। এছাড়া সব কম্পোনেন্টের যদি দাভা ইন্ডিয়ার জেনেরিক না থাকে তাহলে সেই ঘাটতি পূরণের জন্যে কেন্দ্রীয় সরকার উদ্যোগ নিতে পারে। অভিযোগ অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তাররাও নাকি বলেন, জেনেরিক না খেয়ে ব্র্যান্ডেড ওষুধ খান। ভালো ফল পাবেন।
নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মানুষের ওষুধ এর খরচ কমাতে জেনেরিকের উপর গুরুত্ব দেন । কিন্তু জেনেরিক মেডিসিন বাজারে এলেও এর ব্যাপক প্রচলনের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ। যে কারণে এর প্রচলন বাড়ছে না। এসম্পর্কে মানুষের মধ্যে একটি স্বচ্ছ ধারণা দেওয়ার কিংবা সচেতনতা জাগানোরও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
অনেকের অভিমত ব্র্যান্ডেড কোম্পানির ওষুধ থেকে বিপুল অঙ্কের রেভিনিউ সরকারের ঘরে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে বড় একটি চক্র ব্র্যান্ডেড ওষুধ থেকে বিপুল মুনাফা করছেন। তাই এই সমস্ত নানা কারণে জেনেরিক মেডিসিন এর সুবিধা নিতে পারছেন না রোগীরা।
আরশগিকথা ত্রিপুরা সংবাদ
১০ই জুলাই ২০২৬

