রাজ্যের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা । রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হলো রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকরের। তাকে পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে মৃত অবস্থায় জিবি হাসপাতালে নেওয়া হয় । তিনি আত্মহত্যা করেছেন নাকি অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয়েছে তা জানতে দেহ ময়নাতদন্ত করা হয়।
রাজ্য পুলিশের মহাপরিদর্শক অনুরাগ ধ্যান করের রহস্যজনক ভাবে নিজ ঘরের মধ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা কোন ভাবেই সাধারণ ঘটনা হিসাবে মেনে নেওয়া যায়না । তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই রাজ্যে পুলিশের এস ডি পিও থেকে একজন মহাপরিদর্শক হয়েছেন। তিনি বাম আমল থেকেই এই রাজ্যে পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বে কাজ করছেন। তাই বর্তমান ডি জি পি অনুরাগের এই রহস্যজনক মৃত্যু কেউ সহজে মেনে নিতে পারছেন না। রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ সবাই জানতে চাইছেন কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি কি আত্মহত্যা করেছেন নাকি কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
সোমবার দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ তাকে পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে জিবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। জিবিতে কর্তব্যরত ডাক্তাররা জানান মৃত অবস্থায় ওনাকে হাসপাতাল নেওয়া হয়েছিল। সি পি আর দিয়েও তাকে বাঁচানো যায়নি। ১২টা ৪৮মিনিটে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। ডাক্তাররা মৃত্যুর কারণ জানতে না পারায় মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্যে পাঠানো হয়। এদিকে ডি জি পি র মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতাল ছুটে যান মন্ত্রী রতন লাল নাথ,বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার সহ বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন , প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা প্রমুখ।
এদিকে শাসক দলের তরফে যান প্রদেশ বিজেপির সভাপতি তথা বিধায়ক অভিষেক দেব রায় সহ অন্যান্যরা। এদিকে ডি জি পির মৃত্যুর খবর গোটা রাজ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিক্রিয়া দেওয়া শুরু হয়। কেউ বলছেন আত্মহত্যা, কেউ বলছেন তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। আবার কারো মতে তিনি নাকি সুইসাইড নোট রেখে গেছেন। তবে এই বিষয়ে স্পষ্ট কিছুই জানা যায়নি।দীর্ঘদিন ধরে এই রাজ্যে প্রশাসনিক পদে থাকার জন্য বহু বড় বড় ঘটনার সাক্ষী ছিলেন ডি জি পি অনুরাগ। এমন একজন ব্যক্তি চাকরি জীবনে প্রায় শেষ বয়সে এতো বড়ো একটা পদে থেকে এই ভাবে মৃত্যু বরণ করবেন তা কোন ভাবেই মানতে পারছেন না সচেতন নাগরিকরা । ময়না তদন্তের রিপোর্টে এখন কি বের হয় সেটাই দেখার। আগামীকাল ডিজিপির পুত্র কানাডা থেকে আগরতলায় আসবেন । তারপর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে জানা যায়।
আরশিকথা ত্রিপুরা সংবাদ
২০শে জুলাই ২০২৬

