মেয়েটির নাম আকাশলীনা।ছেলেটির নাম সৈকত। দুজনেই সামনের বছরে বিয়ে করবে কথা ছিল ।মেয়েটি বলেছিল তিব্বতের দুয়ারে যাবে ।ছেলেটা বলেছিল -- তোমার অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম আমি শব্দের গভীরে গেঁথে রাখবো । মেয়েটির বাবা- মায়ের শান্ত সংসারে ছিল মাধবীলতার আমন্ত্রণ।সৈকতের বাবা-মা হীন সংসারে ছিল শুধু বই আর বই। কর্মমুখর দিনের শেষে ওদের ছিল প্রতীক্ষা।
একবারই ভাঙতে গিয়েও ... এক নির্জন সাগরবেলার নম্র একান্তে...
মাত্র একটি দুপুর।
মাত্র একবার
তারপর ?
ফিসফিস ভালোবাসায় দুজন দুজনকে ঘিরে,ভলভো বাসে শহরে ফিরে আসা।
মেয়েটি চেয়েছিল তিব্বতে দেব দর্শন করতে । ছেলেটি হাসিমুখে বলেছিল -- লীনা ,আমার আকাশলীনা,আমি তোমার মা বাবার প্রতিদিনের খবর রাখবো । লীনা সৈকতের হাতে চুমু দিয়ে শুধু তাকিয়ে থেকেছিল।
ব্যস ! এই পর্যন্ত! নেপালের পাহাড় টপকানো বিপুল জলস্রোত যেদিন হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল,সৈকত সেদিন আকাশলীনার স্তব্ধ হয়ে যাওয়া বাবা-মা'র পাশে সন্তানের মতো রাত জেগেছিল। রাতের পর রাত।
চারিদিকে শরৎ ও কাশের দিগন্ত । হয়তো লীনা যেখানে নিথর ঘুমে লীন , নদী ,মাটি বা বালির নিচে, সেখানেও হয়তো কাশ ফুটেছে । সেই হাওয়ায় দোলা কাশের মতো লীনাও ক্ষীণ গলায় বলছে -- মা, বাবা ,সৈকত ,আমি তোমাদের লীনা । এত কাশের অন্তরে আমি শুয়ে আছি । ভালো করে খোঁজো সৈকত । যেখানে কাশের গুচ্ছ পাগলের মতো দুলছে ,সেখানেই আমার মতো হতভাগ্যরা শুয়ে আছি। সামনে এসে দাঁড়াবে না সৈকত ?
আমি যে বাঁচতে চাই ।
আমি যে তোমার সঙ্গে সংসার করতে চাই....
আরণ্যক বসু
আরশিকথা সাহিত্য
ছবিঃ সৌজন্যে ইন্টারনেট
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

.jpg)