সেই পাঁচ বছরের মুকুল আজ দেশ-বিদেশের নামকরা ডাক্তার বিশ্বরূপ ঘোষাল। কিন্তু বিশ্বরূপের মনটা আজও মুকুলের মধ্যেই পড়ে আছে। চল্লিশ বছর বয়সের ডাক্তার বিশ্বরূপ ঘোষাল,স্কটল্যান্ডের একটা ছোট্ট কাউন্টিতে কিছুদিনের জন্য এসেছিলেন, কিছু জটিল মানসিক রোগ সম্পর্কে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে । কিন্তু বিশ্বরূপ তো এখনো সে--ই মুকুল। তাঁর পাঁচ বছর- ছয় বছর -সাত বছর বয়সের জীবনটা আশ্চর্যভাবে তাঁর মনের ক্যামেরায় ধরা রয়েছে। সম্মেলন মিটে যাওয়ার পরে ইচ্ছে করেই বিশ্বরূপ সেই কাউন্টিতে ছোট্ট একটা কটেজ ভাড়া করে থেকে গেলেন
দু -তিন দিন। জায়গাটায় থিতু হয়ে ছোট্ট বাগানে ঘাসের ওপর কফি নিয়ে সামনের দিকে তাকাতেই সামনের পাহাড় আর দিগন্ত ওনাকে যেন স্মৃতি- বিস্তৃতির মধ্যে টেনে নিল। ব্যাপারটা কিছুই না,সামনে জনশূন্য টিলা আর পাহাড়ের মধ্যে পায়ে চলা পথ। লোকজন নেই বললেই চলে। একটা ছোট্ট নদী,নদীর উপর একটা সাঁকো, আর সাঁকোটা পেরিয়ে সবচেয়ে যে দৃশ্যটা বিশ্বরূপকে আকর্ষণ করল সেটা দেখেই ডক্টর বিশ্বরূপ ঘোষাল মুহূর্তের মধ্যেই আবার মুকুল হয়ে গেলেন।
ভারতবর্ষ ছেড়ে আজ কত বছর হয়ে গেলো তিনি আমেরিকা প্রবাসী। সংসার,ছেলে- মেয়ে এবং প্রফেশনাল ব্যস্ততা সব মিলিয়ে চূড়ান্ত সফল জীবনে কোন অতীত স্মৃতি বয়ে বেড়াবার সময়টুকুও আজ আর তাঁর নেই। নিউইয়র্কে তাঁর কর্মস্থলে যে বাঙালি ডাক্তাররা আছেন তাঁরা প্রত্যেকেই ছোটবেলার গল্প করতে বসেন মাঝে মাঝে। ডক্টর বিশ্বরূপ ঘোষালেরও তো ছোটবেলা ছিলো। তবে এই চরম ব্যস্ততায় সেই ছোটবেলাকে মনে করতে পারছেন না কেনো? এই "কেনো' শব্দটাই চল্লিশ বছর বয়সী ডক্টর বিশ্বরূপকে সাত বছর বয়সের মুকুল হয়ে হাতছানি দিল। তাঁর চোখের সামনে স্কটল্যান্ডের নদী, সাঁকো আর সাদা বাড়িটা নিমেষে, তাঁকে পুরুলিয়ার ছোট্ট একটা গঞ্জ,দূরে পাহাড়,সহজ সরল আদিবাসী আর তাঁর দাদুর বেশ বড়সড়ো একটা বাগানে পলাশ, শাল,মহুয়া, কৃষ্ণচূড়ায় ঘেরা চেনা দোতলা বাড়ি আর সেই রূপকথার মতন গ্রামটার কথা মনে করিয়ে দিল।
তাঁদের সুন্দর বাড়িটা দাদুভাই অনিমেষ ঘোষাল দিদিমার স্মৃতিতে তৈরি করিয়েছিলেন। ছেলে,ছেলের বউ মানে মুকুলের মা-বাবা কলকাতা থেকে মাঝে মাঝে আসতেন: তবে পাহাড়, জঙ্গল,আদিবাসী,দারুণ দৃশ্য, মেঘের ছায়াভরা আকাশ ,বর্ষা ঢেলে দেওয়া পাহাড় জঙ্গলের অপরূপ রূপ তাঁরা উপভোগ করতে পারতেন না। তাঁদের সেই সময় ছিল না। মুকুলের বাবা কলকাতার ব্যস্ত নামী ডাক্তার সুশান্ত ঘোষাল আর মা -সামাজিক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। দাদুভাই অনেক টাকা দিয়ে শাল জঙ্গলের কোলে একটা সাদা দোতলা স্কুল বাড়ি তৈরি করিয়েছিলেন। আদর্শবান এই মানুষটি থাকতেন বাগান ঘেরা দোতলা বাড়িতে। সঙ্গে এনেছিলেন নিজের অকাল বিধবা দিদিকে। স্বপ্ন ছিল মুকুলকে আদিবাসী ছেলেমেয়েদের মধ্যে পড়াশোনা করিয়ে তারপর ডাক্তারি পড়িয়ে এই আধুনিকতার ছোঁয়া না লাগা সহজ -সরল মানুষগুলোর জন্য সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। মুকুল ছিল দাদুভাইয়ের সেই স্বপ্ন। কী অদ্ভুত মিল স্কটল্যান্ডের এই টিলা- নদী -সাঁকো আর সাদা বাড়িটার সঙ্গে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের দাদুর তৈরী সেই স্কুল বাড়িটার।
বিশ্বরূপের গায়ে যেন বিস্ময়ের তরঙ্গ খেলে গেল। এত মিলও হয়, পৃথিবীর দু -প্রান্তের দুটি দৃশ্যের! মুহূর্তের মধ্যে ডাক্তার বিশ্বরূপ ঘোষাল মুকুল হয়ে তাঁদের সেই পুরুলিয়ার দোতলা বাড়ির বারান্দায় চুপ করে দাঁড়িয়ে রবিবারের সকালের স্কুলবাড়িটা দৃশ্য দেখতে পেল যেন। ছুটির দিন তাই ছাত্র-ছাত্রী নেই। তাঁদের বাড়িটার নাম ছিল-শাল- মহুয়া। বাড়িটার পাশ দিয়ে একটা পায়ে চলা পথ,একটু দূরেই পাহাড় থেকে নেমে আসা কোন ঝর্ণার তিরতির জলধারা বয়ে যাচ্ছে অন্য কোন জলধারা বা নদীর দিকে। আর নদীর উপরে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। দাদুভাই সাহস যুগিয়ে ছিলেন মুকুলকে। পাঁচ বছরের মুকুলও আদিবাসী ছেলেমেয়েদের সাথে অনায়াসে সেই সাঁকো পেরিয়ে যেত। ছোট্ট স্কুল বাড়িটায় একতলা দোতলায় চার পাঁচখানা ঘর। বাগমুন্ডি অঞ্চলের কয়েকজন শিক্ষিত যুবক ও দিদিমনি সুন্দর করে পড়াতেন। একটা অদ্ভুত সুন্দর স্কুল। যার নাম ছিল --পলাশতলির ইস্কুল। আচ্ছা ডাক্তার বিশ্বরূপ ঘোষালের এতদিন পরে সবকিছু মনে পড়লো কেন?
এই স্বার্থপর দুনিয়ায় শুধু উপরে ওঠার সিঁড়ির দিকেই দৌড় প্রতিযোগিতায় নাম লেখানো আর পাঁচজনের মতো সেও নিজের শিকড়কে এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেল? স্কটল্যান্ডের কাউন্টির হুবহু মিল খুঁজে পাওয়া সেই বাড়িটর সঙ্গে দেখা না হলে কী হারিয়ে যাওয়া মুকুলকে ডাক্তার ঘোষাল আবার চিনতে পারতো?
এই দিনের বেলায় সে লুটোপুটি খেলাধুলায় মগ্ন থাকতো তাঁর ছোট্টবেলার বন্ধুদের সঙ্গে। মুকুলের মা-বাবাও এ ব্যাপারে কখনোই মাথা গলায়নি। প্রকৃতির সন্তান মুকুলের মধ্যে কলকাতার দুর্দান্ত স্মার্ট শৈশবকে মিশিয়ে দিতে চাননি। রবীন্দ্রনাথ যেভাবে তাঁর সন্তান রথি ঠাকুরকে মানুষ করেছিলেন, মুকুলের দাদুও ঠিক সেই ভাবেই মুকুলকে তৈরি করবেন, মুকুলের মা-বাবারও এটাই বিশ্বাস ছিল। আর পিসিদিদাও শত সহস্র ডালপালার স্নেহ দিয়ে আগলে রেখেছিলেন মুকুলকে। কিন্তু সব এক মুহূর্তে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। ঘন শ্রাবনের এক রাতে পুরুলিয়া থেকে স্কুলের জন্য অনেক জিনিসপত্র কিনে গাড়ি বোঝাই করে ফেরার সময় গাড়িটা বাড়ির কাছাকাছি এসে রাস্তার ধারে জলভর্তি এক নালার মধ্যে পড়ে গেল।দাদুভাই কোনভাবেই দরজা খুলতে পারেননি। ড্রাইভার কোনরকমে দরজা খুলে অনেক চেষ্টা করে বার করতে না পেরে স্থানীয় লোকজনকে ডেকে এনে যখন দাদুভাইকে বার করা হলো তখন সবাই দেখলো, তাঁদের ঈশ্বর অনিমেষ ঘোষালের দেহে আর প্রাণ নেই।
জীবন কখনো থেমে যায় না। তাই আবার স্কুল চালু হল। স্কুলের জমিতে অনিমেষ ঘোষালের নামে স্মৃতিস্তম্ভ প্রতিষ্ঠিত হলো। পিসিদিদা স্কুলের সমস্ত কাজকর্ম বুঝে নিলেন। নিজেও গ্রাজুয়েট ছিলেন। টাকা -পয়সা,দায়-দায়িত্ব সবই নিজের মতো করে শিখে নিলেন। মুকুলের মা -বাবা,মুকুলকে নিয়ে ফিরে গেলেন কলকাতায়। ব্যস ওখানেই কাহিনিটা শেষ হয়ে যেতে পারতো। কিন্তু স্কটল্যান্ডের টিলা -নদী- সাঁকো আর সাদা দোতলা বাড়ি এক নিমেষে মুকুলের ভারতে ফিরে আসার সুপ্ত বাসনাটাকে আরও দশ গুন জাগিয়ে দিল। কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ছুটি নিয়ে স্ত্রী, সন্তানের সবকিছু গুছিয়ে মাসখানেকের জন্য ডক্টর বিশ্বরূপ ঘোষাল জন্মভূমির দিকে পা বাড়ালেন।
দমদম এয়ারপোর্ট থেকে টানা গাড়িতে আসতে আসতে শহর ছাড়িয়ে হুগলি জেলায় ঢুকতেই চারিদিকের সবুজ দেখতে দেখতে পুরুলিয়ায় দোতলা স্কুলের ছবিটা আবার ভেসে উঠলো মনের মধ্যে। মনে পড়ে গেল বন্দেমাতরম,ধনধান্য পুষ্পে ভরা, আকাশ ভরা সূর্য তারা, ভারতের জাতীয় সংগীত --জনগণমনঅধিনায়ক জয় হে•••
স্কুলের উঠোনে শাল গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সবাই মিলে এই গানগুলো গাইত তাঁরা। গান গাইতে গাইতে দাদুর চোখ জলে ভরে উঠতো। ডক্টর বিশ্বরূপ আবার মুকুল হয়ে গেছেন। হুগলির পরে বর্ধমান,বাকুড়া তারপর পুরুলিয়া আসতেই মনটা পাগল হয়ে উঠল। অনেক আধুনিকতা এসেছে। রাস্তার ধারে অথবা শালবনের মধ্যে অনেক রিসোর্ট তৈরি হয়েছে। তারপর একসময় শ্রাবণের বিকেলে ঝুপ ঝুপ করে বৃষ্টি নেমে দূরের মাঠাবুরু পাহাড়টাকে আরো সুন্দর করে তুলল। আগেভাগে খবর পেয়ে যাওয়ায় পুরুলিয়ার সহজ সরল মানুষগুলো মুহূর্তের মধ্যে ডাক্তার বিশ্বরূপ ঘোষালকে ফুলের মালা -স্তবকে ভরিয়ে দিতে লাগলো। ডাক্তার বিশ্বরূপ চিৎকার করে বলতে লাগল --আমি ডাক্তার বিশ্বরূপ ঘোষাল নই। আমি তোমাদের সেই মুকুল। এই শ্রাবণের বৃষ্টিতে স্কুলের মাঠে ফুটবল খেলার কথা মনে আছে? আমার তো মনে হচ্ছে এক্ষুনি তোমাদের সঙ্গে•••
হঠাৎ কথা থামিয়ে মুকুল বলল --আমি তোমাদের সবাইকে চিনতে পারছি। আমি নিজের বাড়িতে ফিরে এলাম। তোমরা আমায় শান্তি দাও।আমি স্কটল্যান্ডের একটা গ্রামে গিয়ে হুবহু এই ছবিটাই :এই পাহাড়,এই জঙ্গল,এই নদী,এই সাদা ইস্কুল বাড়িটা দেখতে দেখতে পাগল হয়ে গিয়ে হাউহাউ করে কাঁদছিলাম। জীবনে এত বড় ভুল করেছি আমি? "সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি "তাকেই ভুলে আমি এতদিন কী করছিলাম? এই বাড়িটাতে আমাকে একটা ঘর দেবে, আমি থাকবো? তারপর ফিরে গিয়ে আমি সবকিছু গুছিয়ে আবার চলে আসবো চিরদিনের মতন।স্কুলটাকে বড় করব। মুকুলের বন্ধু হারু ওকে জড়িয়ে ধরে বলল --মুকুল সব হবে। এটা তো তোমারই বাড়ি আমরা সব কিছু গুছিয়ে রেখেছি। তোমার দাদুর স্মৃতির সবকিছু। এই আমার ছেলে রতন মাহাতো। ওর বয়স এখন সাত। ওকে দিলাম তোমার সঙ্গে। ও সব সময় তোমার সঙ্গে থাকবে। আজকে বিশ্রাম নাও, পরে সব কথা হবে। মুকুল জানতে চাইলো-- বাঁশের সাঁকোটা এখনো পাকা ব্রিজ হলো না কেন? ছেলে মেয়েদের যাতায়াতের কত সুবিধা হতো। সবাই মিলে একসঙ্গে বলে উঠলো --না-না মুকুল আমরা এই কুড়ি ফুট চওড়া সাঁকোটাকে কোনদিনও কংক্রিটের ব্রিজ বানাবো না। কেন জানো? মুকুল অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। সকলের হয়ে রতন উত্তর দেয় --এই মাঠাবুড়ু পাহাড়ের ওপর যখন চাঁদ নামে তোমার মনে আছে মুকুল? মুকুল হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। এই বন -জঙ্গল,বুনো হাতির পাল,ভাল্লুক, হায়না, অজগর সাপ এরা আমাদের কোনো ক্ষতি করে না। এই ব্রিজটা পাকা হলেই দলে- দলে শহরের মানুষ এসে ঝাঁপিয়ে পড়বে, বাড়ি করবে, রিসোর্ট তৈরি করবে। আমাদের এই সরু দোলাই নদীকে আমরা হারিয়ে ফেলবো। এটাই আমাদের স্বাধীনতা। আর আমাদের পিসিদিদা তো না থেকেও আমাদের সঙ্গেই আছেন, সবকিছু আগলে রাখেন। আর আমাদের দাদুভাই অনেক স্বপ্ন নিয়ে এই জায়গাটাকে বেছে ছিলেন। আমবাএটাকেই আঁকড়ে থাকবো।
রাত তখন বারোটা।শ্রাবণের আকাশে চাঁদ উঠেছে।
মুকুল রতনের হাত ধরে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো। হালকা চাঁদের আলোয় দূরে দেখা যাচ্ছে স্কুল বাড়িটা। মুকুল বললো-- রতন তুমি আমার বন্ধু হবে? রতন বলল -- আমরা অনেক আগে থেকেই বন্ধু মুকুল। তুমি দেখো আমার দু'চোখ দিয়ে দেখো-
স্কুলের ছাদের ওপরে কোন কিছু দেখতে পাচ্ছ?ডাক্তার বিশ্বরূপ ঘোষালের চোখের সামনে তখনো স্ট্যাচু অফ লিবার্টি, আইফেল টাওয়ার, সিডনি হারবার, সুইজারল্যান্ডের পাহাড় ভেসে আছে। অন্তত পাঁচ মিনিট লাগলো সেই সব চোখ ধাঁধানো জগত থেকে এই শ্রাবণের মাঠাবুড়ু পাহাড়ের নিচে ছোট্ট সাদা স্কুলটার ছাদের উপর মুকুলের চোখ দিয়ে কিছু একটা দেখবার। তবুও কিছু দেখতে পেলোনা কেন? রতন এইবার বলল-- মুকুল আমাদের পিসিদিদা তুমি এসেছ বলে খুব খুশি হয়েছেন। ছাদের উপর সাদা শাড়ি পড়ে তোমার দিকে চেয়ে হাত নাড়ছেন। তুমি দৃষ্টিটা আরো গভীর কর। তুমি এখন শালপিয়ালের পুরুলিয়ার একজন বালক। তুমি ক্লাস -টু তে পড়ো। তুমি ক্লাস ঘর থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ধীরে ধীরে ছাদের উপর ওঠো। চোখ বুজে ভাবো তুমি সিঁড়ি বেয়ে উঠছো। এইবার সিঁড়ির ঘরের দরজাটা খুলে ছাদে এলে। এবার চোখ খোলা মুকুল,চোখ খোলো। তুমি এখন সেই চোখ ফিরে পেয়েছ। আমাদের পিসিদিদা আজও অমর। তিনি কোনদিনও আমাদের ছেড়ে যাবেন না। মুকুল তুমি প্রাণভরে পিসিদিদার আশীর্বাদ চেয়ে নাও।
ধীরে ধীরে চোখ খুলছে মুকুল।পিসিদিদা তাকিয়ে আছেন ওর দিকে। মুকুল শুনতে পাচ্ছে, পিসিদিদা বলছেন-- আর হারিয়ে যেওনা মুকুল, যে স্বপ্ন তোমার দাদু দেখেছিলেম তোমাকে নিয়ে,সেই স্বপ্নকে সার্থক কর। নিজের জন্মভূমির এই সহজ সরল মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াও। এদের যে তোমাকে বড় প্রয়োজন। বড় প্রয়োজন। ফিরে এসো মুকুল, ফিরে এসো।
আরণ্যক বসু
আরশিকথা সাহিত্য
ছবিঃ সৌজন্যে ইন্টারনেট
১৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

.jpg)