আরশি কথা

আরশি কথা

No results found
    Breaking News

    এন আই টি ত্রিপুরা কলকাতা চ্যাপ্টারের প্রাক্তনী সম্মেলনে প্রকাশিত ‘হিরোজ অব এশিয়া – প্রথম খণ্ড’ ।। আরশিকথা দেশ

    আরশি কথা

    নিজস্ব প্রতিনিধি, কোলকাতা, আরশিকথাঃ


    ত্রিপুরা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বর্তমানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি আগরতলা)-এর কলকাতা চ্যাপ্টারের ২৩তম প্রাক্তনী সম্মেলনে, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গের ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন ক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হল ‘হিরোজ অব এশিয়া – প্রথম খণ্ড’ (Heroes of Asia – Volume I)। Knowversity Foundation-এর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনার মূল লক্ষ্য ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের বীরদের, বিশেষত অনালোচিত ও স্বল্পপরিচিত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবন, আত্মত্যাগ ও অবদানকে নথিভুক্ত ও সংরক্ষণ করা এবং বৃহত্তর সমাজের সামনে তুলে ধরা।

    প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ প্রাক্তনী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। উপস্থিত প্রবীণ প্রাক্তনীদের মধ্যে ছিলেন ১৯৭৩ সালের প্রাক্তনী প্রদীপ বণিক, গৌতম রায় চৌধুরী, দীপঙ্কর চৌধুরী এবং শ্যামাপদ ভট্টাচার্য। বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক হেমেন্দ্র লাল ভৌমিক, দীপক পোদ্দার, বিমলেন্দু চক্রবর্তী, অধ্যাপক (ড.) রিচি প্রসাদ শর্মা এবং অধ্যাপক (ড.) স্বপন ভৌমিক। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি আগরতলার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিও অনুষ্ঠানটিকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করে। প্রবীণ প্রাক্তনী, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সম্মিলিতভাবে ‘হিরোজ অব এশিয়া’ গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন।

    ২৩তম প্রাক্তনী সম্মেলনে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশে বসবাসকারী প্রাক্তনীরাও উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের এই ব্যাপক অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে এক স্মরণীয় পুনর্মিলনীতে পরিণত করে এবং প্রতিষ্ঠানটির সুদৃঢ় ও বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত প্রাক্তনী-সম্পর্কের পরিচয় বহন করে।

    এই অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনী সম্মেলনের মঞ্চে ‘হিরোজ অব এশিয়া’ প্রকাশিত হওয়ায় উদ্যোগটি বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে। প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ যাত্রাপথের বিভিন্ন প্রজন্মের প্রবীণ প্রাক্তনী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং এনআইটি আগরতলার প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ‘হিরোজ অব এশিয়া’-র ঐতিহাসিক ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্য বৃহত্তর বিদ্বৎসমাজের সামনে তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে।

    ‘হিরোজ অব এশিয়া’ গ্রন্থটির পরিকল্পনা ও ভাবনা Knowversity Foundation-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. শুভ্র চক্রবর্তী-র দূরদৃষ্টির ফসল। লেখক, গবেষক এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের উত্তরসূরিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গ্রন্থটি রচিত হয়েছে। এই প্রকাশনার উদ্দেশ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবন, সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও অবদান বৃহত্তর সমাজের সামনে তুলে ধরা—বিশেষত সেইসব বীরের কাহিনি, যাঁদের অসামান্য ভূমিকা এখনও স্বল্পপরিচিত অথবা মূলধারার ইতিহাসে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

    ‘হিরোজ অব এশিয়া – প্রথম খণ্ড’-এ কয়েকজন সুপরিচিত বিপ্লবীর জীবন ও অবদানও পুনরালোচিত হয়েছে। তবে এই উদ্যোগের বৃহত্তর লক্ষ্য হল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অনালোচিত ও স্বল্পপরিচিত বীরদের জীবনকাহিনি অনুসন্ধান, গবেষণা, নথিভুক্তকরণ ও সংরক্ষণ করা, যাতে তাঁদের আত্মত্যাগ, আদর্শ ও দেশপ্রেম বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্মিলিত স্মৃতিতে অম্লান থাকে।

    প্রথম খণ্ডে যেসব স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বিপ্লবীর জীবন এবং অবদান তুলে ধরা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন চাপেকর ভ্রাতৃদ্বয়, বসন্ত কুমার বিশ্বাস, লেফটেন্যান্ট সুনীল কুমার ব্যানার্জি, ক্রান্তিবীর হৃদয়ে রঞ্জন চক্রবর্তী, সর্দার বলবন্ত সিং পরদেশী, কেদারেশ্বর চৌধুরী, বলী চরণ দাস, খড়্গবল্লভ দাস, পরীক্ষিত মুখোপাধ্যায়, রফিজুদ্দিন আহমেদ এবং পুরেন্দ্র নারায়ণ নাথ। গবেষণা ও তথ্যনির্ভর নথিভুক্তকরণের মাধ্যমে তাঁদের সাহস, দেশপ্রেম, বিপ্লবী চেতনা এবং মাতৃভূমির জন্য আত্মত্যাগের ইতিহাস বৃহত্তর পাঠকসমাজের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।

    ‘হিরোজ অব এশিয়া’ উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে Knowversity Foundation-এর বৃহত্তর লক্ষ্য—ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অনালোচিত ও স্বল্পপরিচিত বীরদের জীবন ও উত্তরাধিকার অনুসন্ধান, গবেষণা, নথিভুক্ত এবং সংরক্ষণ করা। দেশের স্বাধীনতার জন্য অগণিত নারী ও পুরুষ তাঁদের ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, কর্মজীবন, পরিবার ও ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিয়েছেন। বহু বীর মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছেন। অথচ তাঁদের অনেকের অবদান আজও পারিবারিক স্মৃতি, আঞ্চলিক ইতিহাস, বিচ্ছিন্ন দলিলপত্র ও বিভিন্ন অভিলেখাগারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।

    এই ব্যবধান দূর করার লক্ষ্যে Knowversity Foundation গবেষক, লেখক এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের উত্তরসূরিদের একটি অভিন্ন মঞ্চে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে। পারিবারিক স্মৃতিকথা, ঐতিহাসিক নথি, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও মৌখিক ইতিহাস সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়ার আগেই সেগুলি সংগ্রহ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    তবে এই উদ্যোগ কেবল ইতিহাসের নথিভুক্তকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সংগ্রাম, আদর্শ, সাহস ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে Knowversity Foundation নতুন প্রজন্মের কাছে এই উপলব্ধি পৌঁছে দিতে চায় যে দেশপ্রেম কেবল একটি আবেগ নয়; এর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত রয়েছে দায়িত্ববোধ, সততা, সেবা, সাহস এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে স্থান দেওয়ার অঙ্গীকার।

    নথিভুক্ত ইতিহাস এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারগুলিতে আজও সযত্নে সংরক্ষিত জীবন্ত স্মৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলে ‘হিরোজ অব এশিয়া’ নিশ্চিত করতে চায় যে ভারতের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী বীরেরা যেন ইতিহাসের পাতায় কেবল কয়েকটি নাম ও তারিখে সীমাবদ্ধ না থাকেন; বরং তাঁদের জীবন, আদর্শ ও আত্মত্যাগ ভারত, এশিয়া তথা বিশ্বের নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে ওঠে।

    এই দৃষ্টিকোণ থেকে ত্রিপুরা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ–এনআইটি আগরতলা, কলকাতা চ্যাপ্টারের ২৩তম প্রাক্তনী সম্মেলনে ‘হিরোজ অব এশিয়া – প্রথম খণ্ড’-এর প্রকাশ নিছক একটি গ্রন্থ উন্মোচন ছিল না। এই অনুষ্ঠান শিক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্য, ইতিহাসের স্মরণ এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের আদর্শ ও আত্মত্যাগের চেতনাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সম্মিলিত দায়িত্বকে একই মঞ্চে যুক্ত করেছে।

    ‘হিরোজ অব এশিয়া’-র মাধ্যমে Knowversity Foundation তার চিরন্তন বার্তাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে—

    “অনালোচিত বীরদের স্মরণ করি। তাঁদের উত্তরাধিকার সংরক্ষণ করি। নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করি। দেশ সবার আগে।”

    গ্রন্থ: হিরোজ অব এশিয়া – প্রথম খণ্ড

    উদ্যোগে: Knowversity Foundation, India

    উপলক্ষ: ত্রিপুরা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বর্তমানে এনআইটি আগরতলা), কলকাতা চ্যাপ্টারের ২৩তম প্রাক্তনী সম্মেলন

    তারিখ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

    স্থান: ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন ক্লাব, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ


    আরশিকথা দেশ সংবাদ

    ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬

     

    Tags
    3/related/default