নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে মনোনয়ন জমা পর্ব শেষ হয়েছে মঙ্গলবার। ৯ই সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করা হবে এবং ১১ সেপ্টেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পরই সামগ্রিক চিত্র পরিষ্কার হবে। যদিও এখন পর্যন্ত যে চিত্র এতে দেখা যায় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মোট ১০,৯৫৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে চূড়ান্তভাবে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছেন মোট ১০,৯৩৬ জন প্রার্থী। মনোনয়ন জমা দেওয়ার নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে তিপ্রা মথা পার্টি। দলটির পক্ষ থেকে মোট ৪,৩৯০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ৪,৩৭১ জন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিপিআই(এম)। বাম দলটির পক্ষ থেকে ২,৪৮৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও চূড়ান্ত প্রার্থী রয়েছেন ২,৪৮৪ জন। অন্যদিকে, শাসকদল বিজেপি-র পক্ষ থেকে ১,৯৭৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে এবং সবকটি ক্ষেত্রেই প্রার্থিতা বহাল রয়েছে। অন্যান্য দলগুলির মধ্যে আইপিএফটি-র পক্ষ থেকে ৪৮৬টি, কংগ্রেস-এর পক্ষ থেকে ৪৬৬টি এবং সিপিআই-এর পক্ষ থেকে ৪টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। সিপিআই-এর চারটি মনোনয়নই চূড়ান্ত হয়েছে।এছাড়াও নির্দল প্রার্থী এবং অন্যান্য ছোট রাজনৈতিক দল মিলিয়ে ১,১৫১টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এ বিষয়ে বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব অনুরাগ সেন। এদিন তিনি আরও জানিয়েছেন ১১৬৯ টি আসনে শুধু মাত্র ১ টি রাজনৈতিক দলের তরফে মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছে এবং মুংগিয়াকামি এবং হেজামারা ব্লকের তিনটি আসনে একটিও নমিনেশন প্ত্র জমা দেওয়া হয় নি। এই সমস্ত প্রার্থীরই চূড়ান্ত প্রার্থিতা বহাল রয়েছে বলে কমিশনের পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচনী প্রচারে আরও গতি এসেছে। স্ক্রুটিনি ও মনোনয়ন প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে। এখন নজর আগামী দিনের প্রচার, জোটের সমীকরণ এবং ভোটারদের রায়ের দিকে। প্রসংগত রাজ্যের আটটি জেলার জেলা শাসক ও কালেক্টরদের জেলা নির্বাচন আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ৫২টি আরডি ব্লকের বিডিওদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ২৩১ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার এবং ৩৭৩ জন সেক্টর অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী কাজে প্রায় ৮,৫০০ জন ভোটকর্মী নিয়োজিত থাকবেন বলে কমিশন সূত্রে জানা যায়। এদিকে মনোনয়ন পর্বের পর থেকেই ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের তরফে প্রস্তুতি একেবারে জোর কদমে। জানা গেছে মহারাজা প্রদ্যুত কিশোর , মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা , প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব , মন্ত্রী রতন লাল নাথ, মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী , প্রমুখ নেতৃত্ব বিজেপি , তিপ্রা মথা , আই পি এফ টি অর্থাৎ NDA জোটের প্রচারের মুল অভিমুখ তেমনি বামফ্রন্টের তরফে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার , বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী সহ অন্যান্য বাম নেতৃত্ব এবং কংগ্রেসের তরফে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা , বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ প্রমুখ নেতৃত্ব দলের হয়ে প্রচারে ভোটারদের যার যার দলের অভিমুখে আনার জন্য চেষ্টার কোন খামতি রাখতে নারাজ। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে লক্ষ্যনিয় বিষয় হল বিগত এ ডি সি নির্বাচনে শাসক দল বিজেপি যে ভাবে প্রচার করেছিল এবার এই প্রচার আরও গতি লাভ করবে বলেই মনে করছে বিভিন্ন মহল। আর বিরোধী দল পৃথক পৃথক ভাবে লড়াইয়ের ময়দানে থাকলেও তাদের মুল আক্রমণের কেন্দ্রে যে শাসক দলীয় জোটের কার্যকলাপ থাকবে এতে বিন্দু মাত্র সন্দেহ নেই বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দেখার বিষয় এই প্রচারের লড়াইটা কেমন হয়।
Akb tv news
09.09.2026.

