রূপা বলে , বিবাহিত জীবন নয় , আটচল্লিশ বছরের বন্ধুত্ব।
আমার নাম ডাক ও চায়নি ,
চেয়েছিল আমাদের সন্তানের স্থিতধী জীবন ।
আমি কী মরীচিকার পিছনে ছুটেছিলাম ?
না তো ,
মধ্যবিত্ত স্বাচ্ছন্দ্য থেকে কবি হওয়ার স্বপ্নে....
রূপা ধৈর্য হারায়নি ।
আজো আই সি সি ইউ তে কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে --পরিচয়, আমি এসেছি ।
আমি সেই অতলান্ত মুহূর্তে, ঈশ্বরকে না চিনলেও রূপাকে চিনি।
কাঁপা হাতে ছুঁই। গোবিন্দ ভোগ চালের ভাত আর আলুভাতের গন্ধ পাই।
এত দিনের যৌথ জীবনে আমি নড়েছি,রূপা স্থির।
আজও স্লিভলেস ব্লাউজ থেকে অন্যমনস্কতায় ব্রা এর স্ট্র্যাপ বেরিয়ে থাকলে ,আলতো আঙুলে ঠিক করে দিলে রূপা লাজুক হাসে ।
আটচল্লিশ বছরের বন্ধুত্ব দুটি আঙুল দিয়ে আমার উন্মুখ ঠোঁটে অন্ন তুলে দেয় ।
আমি সেই আউস ধানের ঘ্রাণ বুঝতে পারি ।
আজও নতুন কবিতা লিখলে, ইউনিভার্সিটির ব্যালকনিতে রূপাকে হাত নাড়তে দেখি।
আরণ্যক বসু

.jpg)