বিসর্জনের শেষে কাশ মিলিয়ে গেলেও
শিউলি আছে ,থাকবে ।
অফিস খুলে যাওয়ার পর নির্দিষ্ট বাসস্টপে দাঁড়িয়ে আছে নন্দনা। সারাদিন মন লাগিয়ে অফিস।তারপর আটটা নাগাদ বাস স্ট্যান্ডে এলে পাগল বন্ধু পান্থর সঙ্গে দেখা হবে। আইসক্রিম খেতে খেতে ও একই সঙ্গে পান্থর বুকের গন্ধ পাবে । পুরুষের নিজস্ব হেমন্তের গন্ধ। কী আশ্চর্য আকর্ষণীয়!
কলকাতা থেকে আফগানিস্তান কতদূর কে জানে ! তবু নন্দনা গান্ধার শিল্পের গাঢ় গন্ধ পায় পান্থর চুপচাপ তাকিয়ে থাকায়। এক সময় এ ওকে বিদায় জানায়। অনেক রাত পর্যন্ত ফোনে কথা বলে স্বাভাবিক নগ্নতায়।ওরা কিছুদিন বাদে বিয়ে করবে।সুন্দর করে সংসার সাজাবে বারুইপুর ছাড়িয়ে কোথাও। ওদের একটা বা দুটো ছেলে মেয়ে হবে ।চাকরিতে উন্নতি হবে।গাঢ় বাদামী অন্ধকারে ওরা প্রায়ই মিলিত হবে।একটা সুতোও না রেখে ওদের এই অকপট মিলনে ভীষণ খুশি হয়ে গৃহস্তের ভগবান হেমন্তের বাংলায় গান্ধার শিল্পের সুগন্ধ পাঠিয়ে দেবে ।ওরা নতুন প্রজন্ম ভারতের মৃত্তিকাকে ভরিয়ে দেবে ঐতিহাসিক গন্ধে।তোরাবোরা পাহাড়ের নির্জনতা থেকে যুদ্ধশেষের কান্না ও আশীর্বাদের মৃদু হাসি পাঠিয়ে দেবে গান্ধার কন্যা গান্ধারী।
বাংলাকে যে তার খুউব ভালো লাগে।
আরণ্যক বসু
আরশিকথা সাহিত্য
ছবিঃ সৌজন্যে ইন্টারনেট
২৪শে অক্টোবর ২০২৬

