কত বছর আগে শেষ তোমার কাছে গিয়েছিলাম শ্যামলিমা !
দূরপাল্লার বাস ধরে তোমার সুন্দর শহরে , তোমাদের শীলিত পরিবারে। তোমার প্রিয় কবির জন্য লুচি, আলুভাজা, পটল ভাজা মিষ্টি আর কফি ।তারপর, তোমার ছেলেমেয়ের সঙ্গে খুনসুটি, কবিতা শোনা।
দুপুরে কত রকম পদ দিয়ে মহাষ্টমীর ভোজন।
তোমার বাড়িতে আমার একটা নিজস্ব ঘর আছে। বই , লেখার খাতা, অজস্র পেন।
এ সি চালিয়ে আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিলে । একেবারে সন্ধের কাছিকাছি ঘুম থেকে উঠতেই কফি ,পোস্তর বড়া সঙ্গে নিয়ে আড্ডা।ছেলে মেয়ে সবাই বেরিয়ে গেছে ।এবার তুমি আমাকে তোমার স্কুটিতে নিয়ে বেরোলে ।এই সময় এ শহরে বড্ড ভিড় । তুমি ধীরে ধীরে পাশ কাটিয়ে ফ্লাই ওভারের জ্যামের ওপর দিয়ে রাঙামাটি ছাড়িয়ে ইউনিভার্সিটির কাছে । তারপর ফিরে এসে তোমার প্রিয় কবির নির্জন প্লাটফর্মে বসিয়ে তোমার নিজস্ব কবিতার খাতা ধরিয়ে দিলে । সে কবিতাগুলো কোনোদিন ও প্রকাশিত হবেনা । চট করে চলে গেলে। তোমার আমার প্রিয় কফি আর চপ নিয়ে ফিরে এলে । ততক্ষণে কবিতা শেষ । কফি খেতে খেতে তিন তিন বার শুনলে । অনেক মান অভিমান বিনিময় হলো । প্রতি মাসে অন্তত একবার, তোমার আঁচলের ডাকে দূরপাল্লার বাসের জানলার ফ্রেমে...
শহরে বা ছড়ানো বাংলায় আমার জনপ্রিয়তা তোমার থেকে ক্রমশ দূরে নিয়ে যাচ্ছে।
তোমার কান্না, আমার চোখে জল।
স্কুটিতে আবার বাড়ি ফেরা ।তারপর ঘুমিয়ে পড়তে বললে। আমি তোমার হাতের ওপর আমার হাত রেখে বললাম,দেখতে দেখতে আঠারো বছর হয়ে গেল, তাই না ? তুমি বললে, তোমাকে ছেড়ে আজও থাকা যায় না কবি। আমি ঘুমিয়ে পড়লাম ।পরের দিন আবার ভোরবেলা আমাকে কলকাতা ফেরার বাসে চাপিয়ে জলের বোতল টিফিন, দুটো পান....
পনেরো কুড়ি মিনিট অন্তর অন্তর খোঁজ নিয়ে গেলে ।বাড়িতে ফেরার পর দুজনেরই...
আরণ্যক বসু
আরশিকথা সাহিত্য
ছবিঃ সৌজন্যে ইন্টারনেট
২৪শে অক্টোবর ২০২৬

