রাজতত্ত্বের ময়নাতদন্ত - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শনিবার, ৫ মে, ২০১৮

রাজতত্ত্বের ময়নাতদন্ত

"রাজা"... কথাটার মধ্যেই একটা বুক চিতিয়ে গ্রীবা ফোলানোর ব্যাপার রয়েছে। কিছুটা শক্তিবর্ধকও বটে। হাজার লোকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারীর ভূমিকায় খুব সাবলীল এনারা। জীবনের ৫০ টি বছর কাটিয়ে বেশ কিছু 'রাজা' কে আবিষ্কার করলাম অন্তরে এবং বাহিরেও। জানিনা নিজ নিজ জীবনে এদের দেখা কজন পেয়েছে বা নিজের মনের ভেতর কেউ অনুভব করেছে কিনা তবে কেউ কেউ পেয়েছেন এটা নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি। তেমনি কিছু 'রাজা' দেখা অনুভব করা দুটোতেই যথেষ্ট ভাগ্যবান আমি। আজ তাদের কথা একটু বলি ...

'রাজা নং ওয়ান' -- 'অন্ধ রাজা' ......এনারা কোন জন্মান্ধতায় নিজে কিছু দেখতে পাননা।বরাবরই অন্যের ভাবদর্শনে সব বিচার করেন। মনের সংকীর্ণতায় প্রশস্ত পৃথিবীর উদার হাত এনারা বুঝতে অক্ষম থাকেন। জ্ঞানপাপী হয়ে জ্ঞানচক্ষুর বরদান থেকে বিতাড়িত থাকেন কোন শেষ খেলায় এবং পরিণতিতে শতপুত্র স্বরূপ নিজশক্তি হারান। 


"রাজা নং টু" --- 'লোভী রাজা' ... সকল চাহিদা পূরণেও যিনি অতৃপ্ত থাকেন সর্বদা। সব ছোঁয়ায় সবকিছু সোনায় রূপান্তরিত হয়ে যাবে এই বরে বাড়ি, দেওয়াল, খাট, পালঙ্ক সব সোনা হয়ে গেলো। তবুও লোভের কমতি নেই। সেই লোভের বশে একদিন অজান্তে ছেলে পরিবারকে ছুঁয়ে দিলেন। ব্যাস ...হয়ে গেলো সব সোনা। এবার নিষ্প্রাণ সোনা তো আর প্রাণপ্রিয় পরিবারের স্তব্ধতা ভাঙ্গতে পারেনা। তাই যা হবার তাই হোল। 


"রাজা নং থ্রি" --- 'আলেকজেন্ডার' ...বিশ্বের পরাক্রমশালী রাজা। সব জয় করার নেশায় জয়ের সাফল্যেই থাকলেন জীবনভর। কিন্তু মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে জ্ঞানচক্ষুর উন্মোচনে উদাস হয়ে পড়েন। জীবনের মূল অর্থটা পরিস্কার হয়ে যায় তার কাছে। সতীর্থদের ডেকে শেষ ইচ্ছায় বলেন মৃত্যুর পর যে কফিনে তাকে শেষ বিদায় জানাতে রাখা হবে তাতে যেন তার দুটো হাত বাইরে রাখা হয়। কারণ তিনি চান সবাই দেখুক বিশ্বের পরাক্রমশালী রাজা খালি হাতেই পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং সেই খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন।                                                                                                                                                                                                                           "রাজা নং ফোর" - 'পুরু"- সব হারিয়ে রাজয়ে থেকেও বন্দী অবস্থায় 'বিজয়ী রাজার কাছ থেকে কি রকম ব্যবহার আশা কর' এই প্রশ্নের উত্তরে মাথা উঁচু করে যে পরাজিত রাজা বলতে পারেন "একজন রাজা আর একজন রাজার কাছে যে ব্যবহার আশা করেন তাই"। 


"রাজা নং ফাইভ" --- 'প্রকৃত রাজা' ....প্রজাদের স্বার্থে রাজশাসন সুন্দরভাবে পরিচালনা করার পরও তাদের স্বার্থ রক্ষার্থে আরও সুখ প্রদান করতে ছদ্মবেশে প্রজাদের ভীড়ে মিশে যেতেন তাদের দুঃখ দুর্দশা ভাল করে বোঝার জন্য। 


 অভিজ্ঞতায় 'উলঙ্গ রাজা" গল্প তো সবার জানা তাই এই নিয়ে বিস্তারিত না যাওয়াই শ্রেয়। এছাড়া আরও কিছু রাজকীয়তার কথা জীবনের সাতকাহনে লিপিবদ্ধ থাকে। তাদের দ্বারা সৃষ্ট উত্থান পতনের গল্পেই প্রজাদের সুখদুঃখ লুকিয়ে থাকে চিরকাল

পরিশেষে অভিজ্ঞতার বিরতিতে জীবন আজ আরও অভিজ্ঞ হতে বলে ওঠে ...        "মেজাজটাই তো আসল রাজা আমি রাজা নই।"
ভাল থাকুন সবাই

এডিটর কলাম, আগরতলা
ছবিঋণঃ ইন্টারনেট হইতে সংগৃহীত 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here