"আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়" - মৌসুমী কর, ত্রিপুরা

আঠার'শ নিরানব্বই খ্রীষ্টাব্দের আঠারোই ফেব্রুয়ারী বর্তমান বাংলাদেশের বরিশাল জেলায়  কবি জীবনানন্দ দাশের জন্ম।

পিতার নাম সর্বানন্দ দাশগুপ্ত আর মায়ের নাম কুসুমকুমারী দাশ। জীবনানন্দ দাশ ছিলেন পিতামাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান। ঊণিশ'শ পনেরো খ্রীষ্টাব্দে তিনি ব্রজমোহন বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশনে উত্তীর্ণ হন। দু বছর পর ব্রজমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট বা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। ঊণিশ'শ ঊণিশে খ্রীষ্টাব্দে কোলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজীতে অনার্স সহ বি.এ ডিগ্রী লাভ করেন। ঊণিশ'শ একুশ খ্রীষ্টাব্দে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজীতে দ্বিতীয় শ্রেণীতে এম.এ ডিগ্রী লাভ করেন। যৌবনের প্রারম্ভেই জীবনানন্দ দাশের কবি প্রতিভা বিকশিত হতে শুরু করে। তাঁর প্রথম কবিতা "দেশবন্ধুর প্রয়াণে" বঙ্গবাণী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ধীরে ধীরে কোলকাতা, ঢাকা এবং অন্যান্য জায়গায় বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় তাঁর লেখা ছাপা হতে থাকে। সেই সময়ের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল, কালি কলম, প্রগতি প্রভৃতিতে তাঁর লেখা ছাপা হতে থাকে। ঊণিশ'শ সাতাশ খ্রীষ্টাব্দে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ঝরা পালক' প্রকাশিত হয়। সেই সময় থেকে তিনি পারিবারিক উপাধী দাশগুপ্তের পরিবর্তে কেবল দাশ লিখতে শুরু করেন। জীবনানন্দের কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহা পৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা ও বেলা অবেলা কালবেলা। উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে মাল্যবান, সতীর্থ। প্রবন্ধ রয়েছে কবিতার কথা, কেন লিখি। 

জীবনানন্দ দাশ ঊণিশ'শ ত্রিশ খ্রীষ্টাব্দের নয়ই মে ঢাকার ব্রাহ্ম সমাজ মন্দিরে রোহিনী কুমার গুপ্তের কন্যা লাবন্য গুপ্তকে বিয়ে করেন। তাঁর কন্যা মঞ্জুশ্রী দাশ এবং পুত্র সমরানন্দ দাশ।

কোলকাতাকে তিনি ভীষণভাবে ভালোবাসতেন। জীবদ্দশায় অসাধারণ কবি হিসেবে পরিচিতি থাকলেও তিনি তেমন খ্যাতি অর্জন করে উঠতে পারেননি আর এর জন্য তাঁর প্রচার বিমুখতাও দায়ী। মৃত্যুর পর তিনি বেশী খ্যাতি লাভ করেন।

তাঁর জীবন ও কবিতার ওপর প্রচুর গ্রন্থ লেখা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। যদিও তিনি কবি হিসেবে পরিচিত কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর যে লেখা ও পাণ্ডুলিপি উদ্ধার হয়েছে তার মধ্যে উপন্যাসের সংখ্যা চোদ্দটি এবং গল্পের সংখ্যা শতাধিক।  তাঁর লেখা "বনলতা সেন" নিখীল ভারতীয় বঙ্গ রবীন্দ্র সাহিত্য সন্মেলন উণিশ'শ বাহাত্তর খ্রীষ্টাব্দে পরিবর্ধিত সি গ্রেড সংস্করণ বনলতা সেন ঊণিশ'শ ঊণষাটের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ বিবেচনায় পুরস্কৃত করা হয়। কবির মৃত্যুর পর উণিশ'শ পঞ্চান্ন খ্রীষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারী মাসে 'বনলতা সেন' শ্রেষ্ঠ কাব্য সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার লাভ করে।


 
ঊণিশ চুয়ান্ন সালের চৌদ্দই  অক্টোবর ট্রাম দুর্ঘটনায় কবি আহত হন। তাঁকে ভর্তি করা হয় শম্ভূনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে। কবির অবস্থা ক্রমশঃ খারাপ হতে থাকে।শেষ পর্যন্ত তাঁর নিউমোনিয়া হয়ে যায়। ঊণিশ'শ চুয়ান্ন শালের বাইশে  অক্টোবর চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টাকে বিফল করে তিনি অমৃতধামে পাড়ি দেন।


মৌসুমী  কর,সম্পাদক

সাহিত্য বিভাগ 

আরশিকথা গ্লোবাল ফোরাম 


আরশিকথা হাইলাইটস


ছবিঃ সৌজন্যে ইন্টারনেট

২২শে অক্টোবর ২০২১

 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন