ঢাকা বইমেলায় মানিকের ৪ বই - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

ঢাকা বইমেলায় মানিকের ৪ বই

প্রভাষ চৌধুরী, ঢাকা ব্যুরো এডিটর: এবারের ঢাকা বাংলা একাডেমি বইমেলায় লেখক, সাংবাদিক ও কণ্ঠশিল্পী আমিরুল মোমেনীন মানিকের ৪টি বই প্রকাশিত হয়েছে। সৃজনশীল প্রকাশনী কালো থেকে বেরিয়েছে গল্পের বই ‘রহস্যগন্ধী তরুণী’ এবং কাব্যগ্রন্থ ‘আগুনের জুতো পায়ে হাঁটছি’। আর সেভেন্টিওয়ান টেলিমিডিয়া প্রকাশ করেছে ভ্রমণগল্প ‘এক ঝোলা গান নিয়ে বিলেতে’। তিনটি বই-ই পাওয়া যাবে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ২১৭ নম্বর স্টলে। অন্যদিকে, গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত মানিকের জীবনভিত্তিক উপন্যাস ‘বিপ্লবী আনোয়ার ইব্রাহিম’ পাওয়া যাবে ২০১-২০২ নম্বর ভাষাচিত্রের স্টলে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সঙ্গীত ও সাহিত্যকর্মী হিসেবেও নিজেকে সমান্তরালে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মানিক। কর্মদ্যোমী মানিকের জন্ম জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার এক নিভৃত শ্যামল গাঁও গোবিন্দপুর নাংলা কাঠপাড়া গ্রামে। তার পিতা মুহাম্মদ জামালউদ্দিন ছিলেন স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক। তিনি নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুরে জামাল বাহিনী গড়ে তোলে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। সরকারি চাকুরে ছিলেন মা মিসেস রোকেয়া জামাল। আমিরুল মোমেনীন মানিক মূলত গদ্য লেখক হিসেবে পরিচিত। সমাজের নানা অসঙ্গতি ও বাস্তবতা তিনি তুলে ধরেন সমকালীন ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মাধ্যমে। এবার প্রকাশিত ৮টি বই বাদে তাঁর লেখা অন্য বইগুলো হলো: সুর-সঞ্চারী (২০০২), ইবলিস (২০০৫), ব্লাডি জার্নালিস্ট (২০০৮), বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় স্টুপিড শিক্ষক (২০১২), রাজনীতির কালো শকুন (২০১৩), বঙ্গবীর এক্সপ্রেস (২০১৪), জনচাকর(২০১৫), মুখোশপরা মুখ (২০১৫), খবরের ফেরিওয়ালা (২০১৬), সাংবাদিক সাংঘাতিক (২০১৭), রোহিঙ্গা তরুণী (২০১৮), রাত নেমেছিলো বুকে (২০১৯), সবুজ পরির গান (২০১৯)।
২০১২ সালের বইমেলায় ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় স্টুপিড শিক্ষক’ তরুণদের মধ্যে সর্বোচ্চ বিক্রিত বই। মানিক, বিভিন্ন সময়ে ‘ওরা জাগতে চায়’, ‘তরুণকণ্ঠ’,‘মুক্তবাচন’ ও ‘সহজকথা’ নামের সাময়িকী ও সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনা করেছেন। বাংলাদেশের টেলিভিশন সাংবাদিকতায় মানিককে বলা হয় ‘শুদ্ধ উচ্চারণের সংবাদকর্মী’। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলাদেশের প্রথম ভিডিও নিউজ পোর্টাল চেঞ্জ টিভি. প্রেস। তিনিই প্রথম বাংলাদেশে ইউটিউব জার্নালিজমের ধারণা উপস্থাপন করেন। সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে মানিক জামালপুরের মেলান্দহ উমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন এবং উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হন। এরপর জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে বিজ্ঞান শাখায় প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাশ করেন তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স এবং পরে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়থেকে একই বিষয়ে মাস্টার্স করেন মানিক।
২০০০ সালে মেলান্দহ বার্তা নামের একটি পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ শুরু করেন আমিরুল মোমেনীন মানিক। এরপর দৈনিক সোনার দেশসহ বেশ ক’টি পত্রিকায় কাজ করেন তিনি। ভারতের এনডিটিভি’র নির্বাহী প্রযোজক অভিজিৎ দাশগুপ্তের কাছ টিভি সাংবাদিকতার হাতেখড়ি নেন। ২০০৬ সালে বৈশাখী টেলিভিশনে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যুক্ত হন। বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন দিগন্ত টেলিভিশনে। ছিলেন তিনি মাই টিভির বার্তা সম্পাদক। বর্তমানে এশিয়ান টিভিতে তিনি টক-শো উপস্থাপনা করেন। দীর্ঘদিন খবরপাঠ করেছেন। আমিরুল মোমেনীন মানিক ইতোমধ্যে জীবনমুখী ও ব্যতিক্রমী গানের কণ্ঠশিল্পী হিসেবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন । বাংলাদেশ ও ভারতে জীবনমুখী গানের জগতে তার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। এ পর্যন্ত আমিরুল মোমেনীন মানিকের ৮টি এ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। অবাক শহরে [ ২০১৩], আয় ভোর [২০১৫] ও মা [২০১৫]-এই ৩টি গানের এ্যালবামের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান মানিক। দুই বাংলার নন্দিত সঙ্গীত শিল্পী নচিকেতার সঙ্গে তার গাওয়া গান ‘আয় ভোর’, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন বেশ কয়েকটি এ্যাওয়ার্ড। উল্লেখযোগ্য হলো: রয়টার্স মেকিং টিভি নিউজ এ্যাওয়ার্ড, ইউনেস্কো ক্লাব জার্নালিজম এ্যাওয়ার্ড, উদীচী ইতিহাস প্রতিযোগিতা পুরস্কার, সাঁকো এ্যাওয়ার্ড, ভিন্নমাত্রা এ্যাওয়ার্ড, শের-ই বাংলা স্বর্ণপদক, আরশীকথা সম্মাননা (ত্রিপুরা, ভারত), সাংস্কৃতিক সম্মাননা, (পশ্চিমবঙ্গ-ভারত ২০১৭), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি লেখক সম্মাননা। আমিরুল মোমেনীন মানিক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি বাচসাস, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের স্থায়ী সদস্য। সঙ্গীতের জন্য আমিরুল মোমেনীন মানিক ভ্রমণ করেছেন ভারত, সৌদিআরব, মালয়েশিয়া ও ইংল্যান্ডে। মানবতাকে উচ্চকিত করাই তাঁর নিরন্তর ধ্যান।

আরশিকথা প্রচার-বিনোদন বিভাগ

৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২০

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here