খনা চরিত " (ধারাবাহিক নাটক) ......চতুর্থ পর্বের পর ৫ম,৬ষ্ঠ,৭ম এবং ৮ম পর্ব - অস্ট্রেলিয়া থেকে রবিরশ্মি ঘোষ - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

test banner

Post Top Ad

test banner

রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

খনা চরিত " (ধারাবাহিক নাটক) ......চতুর্থ পর্বের পর ৫ম,৬ষ্ঠ,৭ম এবং ৮ম পর্ব - অস্ট্রেলিয়া থেকে রবিরশ্মি ঘোষ

মুখবন্ধঃ শুধু লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে আছে তার বচন। সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের জন্য বলে যাওয়া কিছু কথা।আমার বিনীত প্রয়াস শুধু প্রাচীন বাংলার আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক বিদুষী নারীর অস্তিত্বের লড়াই কে তুলে ধরা। যে সেচ্ছায় নিজের বাকরুদ্ধ করেছিল তার কথা কে গল্পের ছলে সবার কাছে নিয়ে আসা......

চতুর্থ পর্বের পর......

দৃশ্য ৫


কথক ঠাকুর:
ইহার পরেতে গেল কাটি মাস কয়|
বরাহ পন্ডিত সুখে বিরাজিত হয়||
চাষীগণ মাঝে হয় তখন রটনা|
অব্যর্থ হয় যে ভাই খনার গণনা||
রাজ্যেতে জ্যোতিষী যত তখন আছিলা|
খনার বচন শুনি প্রমাদ গণিলা||
রাজার জ্যোতিষী ছিলা দিব্যদর্শী নাম|
উপস্থিত হইলা আসি বরাহের ধাম||

(বরাহ পন্ডিতের বাসগৃহ| রাজ জ্যোতিষী দিব্যদর্শী এবং দ্বিতীয় দৃশ্যের গ্রামের জ্যোতিষী উপস্থিত|)
(বরাহ পন্ডিত লগ্ন বরাহী লিখতে ব্যস্ত|)
দিব্যদর্শী (হাত জোড় করে): প্রণাম আচার্য| জ্যোতিষ সম্রাটের পদধুলিতে আজ বঙ্গভূমি ধন্য|
বরাহ পন্ডিত (লেখা থেকে চোখ তুলে): আসুন রাজ জ্যোতিষী মহাশয়| আজ এই প্রাতঃকালেই আপনাদের দর্শনের সৌভাগ্য লাভ ... বিশেষ কোন প্রয়োজন বুঝি|
দিব্যদর্শী: না না| তেমন কিছু নয়| আপনার সন্দর্শনে আসা তীর্থযাত্রার মতই পুন্যবর্ধক কি না.... তাই আর কি
গ্রামের ব্রাহ্মন: হ্যাঁ, ওই শাস্ত্রেই কৈয়েছে কি না, “অস্তি গোদাবরী তীরে একঃ বিশাল শাল্মলীতরু”.... এ হেঁ হেঁ হেঁ
বরাহ পন্ডিত (অবাক চোখে গ্রামের ব্রাহ্মণের দিকে চেয়ে): তা ইনি কে?
দিব্যদর্শী: আজ্ঞে কেউ না মানে ওই আমার শিষ্য .. মানে আমার পরিচারক বলতে পারেন| (রোষকষায়িত নয়নে ব্রাহ্মণের দিকে দৃষ্টিপাত)বলেছি না যখন তখন যেখানে সেখানে তোমার এই অসংস্কৃত জিহ্ভা চালনা করবেনা?
বরাহ পন্ডিত: আহা থাক থাক ও বেচারাকে আর অহেতুক তিরস্কার করা কেন ..... বঙ্গ দেশে সংস্কৃতের জ্ঞান আরো প্রচার হওয়া আবশ্যক|
দিব্যদর্শী: আচার্য অত্যন্ত সত্য ভাষণ করেছেন| বঙ্গ দেশ যেন ধীরে  ধীরে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে উঠছে| প্রয়োজন সেই গুরুর যিনি অজ্ঞানের এই তিমির থেকে বঙ্গ দেশ কে মুক্ত করবেন| আপনি এই দেশে পদার্পণ করায় আমরা যে কি পরিমানে লাভবান তা কি করে ব্যাখ্যা করি...
বরাহ পন্ডিত: দেশ থেকে দেশান্তরে জ্ঞানের উন্মেষ আমার একমাত্র লক্ষ্য| আর্যাবর্তের জ্যোতিষ শাস্ত্র যাতে সর্বত্র পৌঁছাতে পারে তাই আমার একমাত্র কাম্যসেই উদ্দ্যেশ্য সাধনের জন্যেই তো আমার সমস্ত জ্ঞানের ভান্ডার উজাড় করে এই লগ্ন বরাহী রচনা করছি|
দিব্যদর্শী: সাধু সাধু! আপনার এই প্রয়াস অতীব প্রশংসনীয়|  (অল্প থেমে)
অধুনা বঙ্গ দেশে জ্যোতিষের বড়ই দুর্দিন| এক মহা বিপর্যয় ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে|
বরাহ পন্ডিত: কি সে মহা বিপর্যয় রাজ জ্যোতিষী মহাশয়?
দিব্যদর্শী: কি আর বলি| বঙ্গ দেশ আদি কাল হতে আর্যাবর্তের জ্যোতিষ শাস্ত্রের পীঠস্থান| এই দেশ হতেই তো আপনার মত মহা পন্ডিতের যাত্রা আরম্ভ| কিন্তু যেদিন থেকে.... (গলা ভেঙ্গে আসে| মাথায় হাত, চক্ষু সজল, ইত্যাদি)
বরাহ পন্ডিত: যেদিন থেকে কি? আপনি নিশ্চিন্তে বিশদ বর্ণনা করতে পারেন|
দিব্যদর্শী: যেদিন থেকে আমাদের মহারাজ ওই সিংহল দেশের মায়াবিনী আর তার স্বামীকে এই দেশে আশ্রয় প্রদান করেছেন সেদিন থেকে বঙ্গ দেশের ভাগ্যাকাশে অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে|
বরাহ পন্ডিত: কিন্তু কি রূপে?
দিব্যদর্শী: সে মায়াবিনী অদ্যাবধি এই দেশের কৃষক সমাজের উপর তার কুহক জাল বুনে চলেছে| সে আর্যাবর্তের জ্যোতিষ বিদ্যা কে অগ্রাহ্য করে কেবল গ্রাম্য ভাষায় ছড়া শুনিয়ে চাষীকুল কে বশ করেছে|
গ্রামের ব্রাহ্মন: তা সে ছড়ার যা ছিরি| কয় কি না
খাটে খাটায় লাভের গাঁতি| তার অর্ধেক মাথায় ছাতি||
ঘরে এসে পুছে বাত| তার ঘরে হা-ভাত হা-ভাত||
মানেও বোঝা দায়|

বরাহ পন্ডিত: এত সাধারণ জ্ঞান| এ তে জ্যোতিষ কোথায়?
দিব্যদর্শী: সেই তো দুঃখ আচার্য| জ্যোতিষ শাস্ত্র তো অবলুপ্তির পথে|মুর্খ চাষীকুল ওই ছলনাময়ীর ছড়ায় ভুলে আছে| আর তা ছাড়া তারা জ্যোতিষ শাস্ত্রের মত জটিল বিষয় অনুধাবন করার যোগ্যই নয়| আমাদের মত কিছু মুষ্টিমেয় মানুষ জ্যোতিষ শাস্ত্রের চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু আজকাল আর যোগ্য সম্মান টুকুও পাওয়া কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছে|
বরাহ পন্ডিত: এ তো অতি গভীর দুশ্চিন্তার কারণ ভদ্র| অতি সত্বর এর একটি বিহিত করা প্রয়োজন| আমাকে কিছু কাল এই বিষয়ে ভাবতে দিন| আমি দেখছি কি করা সম্ভব|
দিব্যদর্শী: আপনার বাক্যে কিছু প্রত্যয় পেলাম| ক্ষীন হলেও একটা আশার আলো যেন দেখতে পাচ্ছি| আজ তবে আমরা আসি? আবার শীঘ্রই যোগাযোগ ঘটবে আশা রাখছি|
বরাহ পন্ডিত: আসুন| প্রত্যয় রাখুন এর একটা বিহিত আমি করবই|
(নমস্কার এবং প্রতি-নমস্কার)




 দৃশ্য ৬

(রাধা গোবিন্দের মন্দির| সকাল বেলা| দোল যাত্রা উপলক্ষে লোক সমাগম|)
(বালিকাদিগের নৃত্য)
সঙ্গীত:
উদিলা ভানু জাগিলা কানু রাই স্বপন ত্যজিয়া|
কুঞ্জ মাঝে গাহে পিক আপন পিয়ার লাগিয়া||
কুঞ্জে কুঞ্জে কুসুম পুঞ্জে ভ্রমর গুঞ্জে গাহিয়া|
ছলত ছলত তটিনী চলত মৃদুল চালে বহিয়া||
আওল সখী  শ্যাম সঙ্গ খেলিব ফাগ রাঙিয়া|
নাচিব গাহিব মাতিব আজি হৃদয় দুয়ার ভাঙিয়া||
খেলিব হোরি অতি আনন্দ মধুর ছন্দ বাজিছে|
দেখ চাহি সখী রাধার সনে শ্রী গোবিন্দ নাচিছে||
কাটিল রজনী আও সজনী সুনহ শ্যামের বাঁশরী|
আম্র কুঞ্জে পবন সঙ্গ খেলত আম্র মঞ্জরী||

(বরাহ পন্ডিত ও তার স্ত্রী সরমা মন্দিরে প্রবেশ করতে গিয়ে খনা ও মিহিরের মুখোমুখি)
(খনা হঠাৎ বরাহ পন্ডিতকে গলায় আঁচল দিয়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে)
বরাহ পন্ডিত: থাক মা থাক থাক| কি তোমার পরিচয়?
খনা: আমি খনা|
বরাহ পন্ডিত: তুমিই খনা? (তার চোখ মুখের ভাব কঠোর হয়ে ওঠে)
খনা (মৃদু হাস্য করে): আজ্ঞে হ্যাঁ, আমিই খনা| কিন্তু আমি আশা করি নি যে আচার্য দেব আমার নামের সাথে পরিচিত থাকবেন|
বরাহ পন্ডিত: অবগত আছি| তা প্রত্যুষে এই প্রণিপাত, একি ছলনা না পরিহাস?
খনা: ছলনা আমি জানি না আর আচার্য দেবের সাথে পরিহাস করার সাহস আমার নেই| এ আমার অন্তরের শ্রধ্যার্ঘ|
বরাহ পন্ডিত: শ্রধ্যার্ঘ (শ্লেষের সুরে)! আর্যাবর্তের জ্যোতিষ শাস্ত্র এবং সেই শাস্ত্র জ্ঞাতাদের প্রতি শ্রদ্ধা আছে তা হলে|
খনা: অবশ্যই আছে আচার্য দেব| শিশুকাল থেকেই আমি ও আমার স্বামী আর্যাবর্তের জ্যোতিষ শাস্ত্র গভীর মনোযোগের সাথে অধ্যয়ন করেছি| আপনার অপূর্ব সৃষ্টি পঞ্চ সিদ্ধান্তিকা আমাদের সর্বক্ষণের সঙ্গী|
বরাহ পন্ডিত: বটে? তা হলে কৃষক সমাজ কে ছেলে ভোলানো ছড়া শোনাও কেন শাস্ত্র মতে গণনা না করে?
খনা: ধৃষ্টতা ক্ষমা করবেন আচার্য কিন্তু আর্যাবর্তের জ্যোতিষের বাইরেও যে আরো জ্ঞানের উৎস আছে তা তো আপনার অনবগত নয়| আপনি স্বয়ং পঞ্চ সিদ্ধান্তিকার মধ্যে রোমক সিদ্ধান্তকে অন্তর্গত করেছেন|
বরাহ পন্ডিত: হ্যাঁ কিন্তু রোমক সিদ্ধান্ত কুহক বিদ্যা নয়, গণিতের দুরুহ তত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত|
খনা: আচার্য, আপনি কেন এই ধারণা করছেন যে কৃষকগণ কে প্রদান করা আমার উপদেশ গণিতের ভিত্তিতে নয়যবন দের পরিসংখ্যান শাস্ত্রের সাথে তো আপনি সুপরিচিত| তারা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই শাস্ত্রের ব্যবহার করেছে আর আমি বহু বৎসর কাল সিংহল দেশে পরিবেশ, আবহাওয়া এবং কৃষিকার্য কে এই শাস্ত্রের সাহায্যে অধ্যয়ন করেছি| তারই ভিত্তিতে আমি কৃষকগণকে তাদের কৃষিকার্যের সাহায্যার্থে সহজ ভাষায় কিছু তথ্য প্রদান করি|
বরাহ পন্ডিত: ফলেন পরিচিয়তে| যেদিন আমি জ্যোতিষ শাস্ত্র বিষয়ে তোমার সম্যক জ্ঞানের পরিচয় পাব সেদিন মেনে নেব যে তোমার বিদ্যা গণিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত, নিছক সিংহলের কুহক বিদ্যা নয়|
খনা: আমি সে সুযোগের অপেক্ষায় থাকব আচার্য্য দেব|
(খনা নমস্কার করে| খনা – মিহির এবং বরাহ – সরমা নিজ নিজ পথে প্রস্থান করেন)

দৃশ্য ৭


কথক ঠাকুর:
আরো কিছু দিন কাটে চন্দ্রকেতুগড়ে|
জ্যোতিষী সকলে মিলি ষড়যন্ত্র করে||
দিব্যদর্শী তাহাদের মুখপাত্র জেনো|
কুটিল হয় না ধামে সেই ব্যক্তি হেন||
খনা মিহিরেতে দিতে দেশ বহিষ্কার|
পাইবে রাজার মত সেই চেষ্টা তার||
প্রচেষ্টা করিল বহু করিল ইঙ্গিত|
না করিল কিছু তবু বরাহ পন্ডিত||
না পারিয়া আর কিছু চাতুরী করিতে|
আপনি কহিলা কথা রাজ সকাশেতে||

(রাজা চক্রকেতুর মন্ত্রণা কক্ষ| দিব্যদর্শী, বরাহ পন্ডিত এবং চক্রকেতু উপবিষ্ট|)
রাজা: আচার্য দেব, রাজ জ্যোতিষী দিব্যদর্শী আজ এক অতি গুরুতর অভিযোগ নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন এবং বিষয় টা যেহেতু জ্যোতিষ সংক্রান্ত তাই আমি অনুমান করলাম যে আপনার উপস্থিতি আমাদের সঠিক মার্গদর্শন করবে|
বরাহ পন্ডিত: কি সে গুরুতর বিষয় যার জন্য আমরা এই বিশেষ মন্ত্রণা সভায়  একত্রিত হয়েছি?
রাজা: রাজ জ্যোতিষী মহাশয় বিশেষ রূপে সংকিত যে আর্যাবর্তের জ্যোতিষশাস্ত্র নাকি অত্যন্ত গভীর সংকটের মুখে উপনীত হয়েছে আর তার কারণ নাকি খনা|
বরাহ পন্ডিত: তা আমি কিছুটা অবগত বটে এবং খনার সাক্ষ্যাৎলাভের সুযোগ ও আমার ঘটেছে| (শ্লেষের সুরে) যত দুর জানি, খনা এবং মিহির একত্রেই থাকে এবং গণনা করে| তা হলে খনার ওপর রাজ জ্যোতিষী মহাশয়ের এই বিশেষ অনুগ্রহের কারণ?
দিব্যদর্শী: আচার্য দেব যত ইচ্ছা বক্রোক্তি করতে পারেন কিন্তু এ কথা সর্বজনবিদিত যে কৃষক কুল কে ছেলে ভুলান ছড়া শুনিয়ে প্ররোচিত করছে ওই খনা| সিংহলের কুহক বিদ্যাকে জ্যোতিষ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার অপপ্রয়াস করছে|
বরাহ পন্ডিত: সে বিষয়ে তার সাথে কিছু বাক্যালাপ আমার ঘটেছে এবং সে সাক্ষ্যাৎ ঘটার পর থেকে এই বিষয়ে আমি কিছুটা অন্য ভাবে চিন্তা করছি| খনার বিদ্যা আর্যাবর্তের জ্যোতিষ শাস্ত্র সম্মত নয় এই কথা সত্যি তবে তা যে নিছক কুহক বিদ্যা তাও নিশ্চিত হয়ে বলা সম্ভব না মহারাজ| তাই আমার মতে খনা ও মিহিরকে একবার রাজসভায় আমন্ত্রণ করে তাদের বিদ্যার পরিচয় গ্রহণ করা যেতে পারে|
দিব্যদর্শী: সেই কুহকিনী কে আমন্ত্রণ করা হবে রাজ সকাশে? তার পর কি দেশের সকল মায়াবী ভোজবাজ দের ও আমন্ত্রণ করা হবে তাদের কুহক বিদ্যা প্রদর্শনের জন্য?
রাজা: (ইষৎ বিরক্ত হয়ে) আহা উত্তেজিত হচ্ছেন কেন ভদ্র| আচার্য দেব যা বলেছেন তাতে অন্যায় তো কিছু নেই| খনা ও মিহির কে একবার সভায় আমন্ত্রণ করা টা আবশ্যক| তার পরে যদি তাদের বিদ্যা নিতান্তই মায়াবী বিদ্যা প্রমানিত হয় তাহলে তাদের কে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হবে|
দিব্যদর্শী: ঠিক আছে| তবে তাই হোক| তবে আমার মনে হচ্ছে যে মায়াবিনী তার মায়াজাল বেশ গভীরে রচনা করা আরম্ভ করেছে| আচার্য দেব আপনিও সাবধান থাকবেন|
(দিব্যদর্শীর প্রস্থান) 





দৃশ্য ৮


(রাধা গোবিন্দের মন্দির| সন্ধ্যা বেলা| নৃত্য গীতের মাধ্যমে সন্ধ্যারতি চলছে| খনা একা বসা| অল্পক্ষণ পরে মিহির এসে যোগ দেয়|)
গান:
আওত সাঁঝ গগন উঠিছে গভীর লাজে রাঙিয়া,
সে গগন হেরি হিয়া আজু মোর দেখহ উঠিছে কাঁপিয়া|
সখী রি, আজু এ রজনী কাটিবে কেমনে কানহার বাঁশুরি বিনে?
কানহা তো অবহুঁ মথুরা নগরবাসী
বীচ মে বহত রহি যমুনা সর্বনাশী|
দুঃখে আজু মোর চিত্ত বিকল
শিথিল হইল অঙ্গ সকল|
সখী রি, আজু এ রজনী কাটিবে কেমনে কানহার বাঁশুরি বিনে?

মিহির: এই মনোরম গোধুলি বেলা| জানি না আর কতদিন এই অনুভূতি হৃদয়ঙ্গম করার সুযোগ ঘটবে|
খনা: এ কথা বলছ কেন?
মিহির: তুমি তো অবগত আছ এই বিষয়ে| মহারাজ এর আদেশ হয়েছে যে আগামীকল্য তার রাজসভায় আমাদের কে উপস্থিত থাকতে হবে| এর পর কি যে হবে তা নিয়তিই জানে|
খনা: একজন জ্যোতিষ শাস্ত্রের জ্ঞাতার মুখে এই কথা শোভা পায় না| অন্যের ভাগ্য গণনা করা আমাদের কাজ| নিয়তির নির্দেশ জন্ম পঞ্জীর মধ্যেই নিহিত আছে| তুমি নিশ্চিন্তে থাক|
মিহির: হয়ত অন্যের ভাগ্য গণনা করা সহজ, নিজের ভাগ্য রেখার দিকে দেখতে বুক কেঁপে ওঠে|
খনা: তাহলে সেই কর্ম হতে বিরত থাক| আমি দেখেছি তোমার ভাগ্যরেখা| জেনে রাখ যে আগামীকাল আমাদের জীবনের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ দিন| তোমার ভাগ্যচক্রের পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী|
মিহির: কি ভাবে খনা? আর কেমন করেই বা তুমি এত নিশ্চিত হতে পারছ?
খনা: (মৃদু হাস্য করে)খনার বচন মিথ্যা হয় না| এখন তুমি নিশ্চিন্তে গৃহে চল|
মিহির: (দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে)তাই যেন হয়|

(খনা ও মিহিরের প্রস্থান)

===========================================

রবিরশ্মি ঘোষ, অস্ট্রেলিয়া

১৫ই সেপ্টেম্বর ২০১৯

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

test banner