মাসুদ রানা-মিস্টার বিন-সুপারম্যান-স্পাইডারম্যান এবং চার্লি চ্যাপলিন ঢাকার রমনা পার্কে...একটি রম্য রচনা - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

সোমবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৮

মাসুদ রানা-মিস্টার বিন-সুপারম্যান-স্পাইডারম্যান এবং চার্লি চ্যাপলিন ঢাকার রমনা পার্কে...একটি রম্য রচনা


পার্কে অলসভাবে বসে আছে মিঃ বিন, কিছুক্ষণ পর পার্কের বেঞ্চে শুয়ে পড়ে গান গাইছে "সে যে কেন এলো না মোটেই ভালো লাগেনা, এবার আসুক সে তারে তারে আমি মজা দেখাবো"...কিছুক্ষণ শোয়া থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পায়চারি করতে থাকে আর বলতে থাকে এদেশের মানুষের সময় সম্পর্কে আর জ্ঞান হবেনা, আমার বাংলাদেশের বন্ধু বিখ্যাত গোয়েন্দা লেখক মাসুদ রানার আমন্ত্রণে এসে তো এখন পুরাই বিপদে পড়ে গেলাম, এখন পার্কে বসে থাকতে হচ্ছে... এরমধ্যেই মাসুদ রানার আগমন 
মাসুদ রানা- স্যরি দোস্ত একটু দেরী হয়ে গেল, আগেই বের হতে পারতাম, তবে তোর ভাবীর জন্য আবার নাস্তা বানাতে গিয়ে দেরী হয়ে গেছে...
মিঃ বিন- এটা কোন কথা হলো...তুই নাস্তা বানাতে গেলি কেন? বাসায় একটা বুয়া রাখলেই তো পারিস
মাসুদ রানা- নারে তোর ভাবী বুয়া রাখতে দেয় না, কারণ সেও আমার বাসায় প্রথম বুয়া হয়ে এসে এখন আমার বউ হয়েছে তো তাই এখন আর কোন বুয়াকে বিশ্বাস করে না।
এমন সময় সুপারম্যানের আগমন...সে পান চিবোতে চিবোতে ঢুকছে...
মিঃ বিন- তা সুপারম্যান, কেমন লাগছে তোমার বাংলাদেশ সফর? তোমার পেট এত মোটা লাগছে কেন? তুমি কৃমির বড়ি খাওনা কেন?
সুপারম্যান- (হেসে দিয়ে) না রে মিঃ বিন, আসলে আমিতো ঢাকায় এসে পুরান ঢাকায় উঠেছি। ওখানকার কাচ্চি বিরিয়ানি, নানান পদের কাবাব খেয়ে ভুঁড়িটা একটু বাড়ছে আর কি। তা তোমাকে দেখেতো মনে হচ্ছে তুমি কিছুই খাওনি...
মিঃ বিন- (একটু রাগ করে বললো) শুকনো লাগবেনা তবে কি লাগবে...মাসুদ রানা আমন্ত্রণ করে এদেশে নিয়ে এসে এখন খাবার দিচ্ছে না, বলে কি তোমাকে তো আমন্ত্রণ করে নিয়ে এসেছি, নিমন্ত্রণ করে নিয়ে আসলে খাবার দিতাম। আগে আমন্ত্রন আর নিমন্ত্রণের পার্থক্য বুঝি নাই, বুঝলে কি আর এদেশে আসি... 
মাসুদ রানা- মিস্টার বিন, আমি তো জানতাম তুমি বোবা কথা বলতে পারো না, তা এখন এত ফটফট করে কথা বলছো কি করে?
মিঃ বিন- আরে কে বলেছে আমি কথা বলতে পারিনা, আসলে আমি বুদ্ধি করেই মুখ বন্ধ রাখি। কারণ ছোটবেলায় বইতে পড়েছিলাম বোবার কোন শত্রু নাই। তার চেয়ে বড় কথা কোন নির্দিষ্ট ভাষায় কথা বললে অন্য ভাষার লোক আবার মাইন্ড করতে পারে। ঐ যে কথায় বলেনা এক দেশের বুলি আর এক দেশের গালি। আর সবাই মনে করে আমি বাক প্রতিবন্ধী, তাই সবাই সহানুভুতি নিয়ে ছবিগুলি দেখে। আর সবচেয়ে ভালো হয়েছে যেটা সেটা হল আমাকে আর কেউ ফোন করেনা আর আমিও ফোন করিনা। এই ফোনের পয়সা বাঁচাইয়া কোনরকম সংসারটা চালাচ্ছি আর কি...
মাসুদ রানা- তা সুপারম্যান, তুমি এত বোকা কেন? তুমি প্যান্টের ওপর আন্ডারপ্যান্ট পড়ে বাইরে বের হও। আর তুমি যে পুরান ঢাকায় এত খাওয়াদাওয়া করলা টাকা পাইলা কই?
সুপারম্যান- আরে গোপন কথা হলো যে আমার প্যান্টের আসল জায়গাটা ছিড়া। এখন যদি আন্ডার প্যান্ট নীচে পরি তাহলে তো মানুষ জেনে যাবে যে আমার প্যান্ট ছিড়া। তাই বুদ্ধি করে প্যান্টের ওপর আন্ডার প্যান্ট পরেছি। তাতে দুটো লাভ হয়েছে। এক প্যান্টের ছিড়া কেউ বুঝলো না, দুই আমার আন্ডার প্যান্টটাও সবাইকে দেখাতে পারলাম। আর পুরান ঢাকার খাওয়াদাওয়ার পয়সা পাইলাম ঐ আন্ডার প্যান্টের জন্যই... 
মাসুদ রানা- বুঝেছি, তোমার এই পোশাক দেখে পাগল মনে করে লোকজন টাকা পয়সা দিছে...
সুপারম্যান- আরে না, যে কোম্পানির আন্ডারপ্যান্ট পরি সেই কোম্পানি ওদের বিজ্ঞাপন বাবদ কিছু টাকাপয়সা দিছে...
এরমধ্যে স্পাইডারম্যান চলে আসে...
মিঃ বিন- স্পাইডারম্যান, তোমার সময় সম্পর্কে কোনদিন জ্ঞান হবে না। কয়টার সময় আসার কথা আর কয়টায় আসলে?
স্পাইডারম্যান- আরে আমার কোন দোষ নাই। ঐ বেটা হোটেলের ম্যানেজারের জন্য দেরী হয়ে গেছে। হোটেলের ভাড়া বাকি পড়েছে। ম্যানেজার আজ আমার রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়াইয়া আছে। বলেছে আজ ভাড়া না দিলে হোটেল থেকে বের হতে দেবে না। আমি বুদ্ধি করে জানালার গ্রীল খুলে দেওয়াল বেয়ে নীচে চলে এসেছি... বেচারা ম্যানেজার...তুমি তো জানো না আমি কিভাবে স্পাইডারম্যান হয়েছি। আমি ছাত্র অবস্থায় মেসে থাকতাম। মেসের ভাড়া প্রায়ই বাকি থাকতো। তাই বাড়ীওয়ালার চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য সবসময় পিছনের দেওয়াল বাইতে বাইতে ওপরে উঠতাম... সেইখান থেকেই আজ আমি স্পাইডারম্যান হয়েছি...
সুপারম্যান- তা মাসুদ রানা, তুমি এত কিছু থাকতে গোয়েন্দা লেখক হইলা কেন?
মাসুদ রানা- আরে আমি তো প্রথম জীবনে গোয়েন্দা লেখক ছিলাম না। প্রথম জীবনে আমি কমেডি স্ক্রিপ্ট লিখতাম। এই স্ক্রিপ্ট নিয়ে পরিচালক আর প্রযোজকদের খুঁজতে খুঁজতে এখন গোয়েন্দা লেখক হয়ে গেছি... 
এবার চার্লি চ্যাপলিনের আগমন ঘটে...
স্পাইডারম্যান- তা চার্লি চ্যাপলিন, এত দেরী করে আসলে আবার এত খুশী খুশী ভাব কেন?
চার্লি চ্যাপলিন- আর বোল না, আমি এই লাঠি নিয়ে শাহবাগ মোড় পার হচ্ছিলাম, হঠাৎ এক লোক আমাকে অন্ধ মনে করে ধরে রাস্তা পার করে দিয়ে আমার হাতে একটা ৫ টাকার কয়েন ধরাইয়া দিয়া চলে গেছে। এই দেখাদেখি আরও কিছু লোক টাকাপয়সা দিলো। আমি বুদ্ধি কইরা মাথার হ্যাট খুলে থালা বানাইয়া সামনে ধরলাম। যা আয় হলো তা দিয়ে ঝালমুড়ি কিনে খাইলাম আর রিক্সা করে চলে আসলাম...
মাসুদ রানা- চল এখন এসব বাদ দিয়ে আমরা যেজন্য এসেছি সেই কাজে যাই। বাংলাদেশটা ঘুরে দেখতে হবে পরে আবার দেরী হয়ে যাবে যে ......।। 

লেখকঃ হেদায়েত তুর্কী, জনপ্রিয় অভিনেতা, বাংলাদেশ
ছবিঋণঃ ইন্টারনেট হইতে সংগৃহীত
                       

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here