শুরু হলো রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী খারচি উৎসব - আরশি কথা

আরশিকথা ঝলক

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

শুক্রবার, ২০ জুলাই, ২০১৮

শুরু হলো রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী খারচি উৎসব

তন্ময় বনিক,আগরতলাঃ
বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আবারো মনে করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। বললেন " আমি আবারো বলি প্রতি ঘরে ঘরে রোজগার দেবো। ত্রিপুরা সমুদ্রবন্দর থেকে মাত্র ৬৪ কিলোমিটার দূরে। সাব্রুমে ফেনী নদীর উপর সেতু হলে ২০১৯ এর ডিসেম্বরের পর ত্রিপুরা বিজনেস হাব হবে।"
রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী খারচি উৎসব ও মেলার উদ্বোধন করে এই কথাগুলি বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, বিগত ৩৫ বছরে ত্রিপুরা অনেক পিছিয়ে পড়েছে। মাত্র চার-পাঁচ মাসে সবকিছু ঠিক করা যায়না। তিনি এর জন্য রাজ্যবাসীর কাছে কিছুদিন সময় চান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ধর্ম ছাড়া রাজকার্য হয়না। বিগত দিনগুলিতে ত্রিপুরায় ধর্ম সঙ্কট চলছিলো। তাই সামাজিক অবক্ষয়ের নানা চিত্র ফুটে উঠেছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন বঞ্চনা লাঞ্ছনা থেকে ত্রিপুরাকে মুক্ত করা হবে। স্বনির্ভর ত্রিপুরা গড়া হবে। চতুর্দশ দেবতা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চতুর্দশ দেবতা ত্রিপুরার রাজপরিবারের কুলদেবতা। 
পরবর্তীকালে তা জাতি উপজাতির আরাধ্যদেবতা হয়েছে। আর এখন ৩৭ লক্ষ ত্রিপুরাবাসীর কুলদেবতা হচ্ছে চতুর্দশ দেবতা। মুখ্যমন্ত্রী এদিন মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে খারচি উৎসব ও মেলার উদ্বোধন করেন। একটি স্মরণিকারও আবরণ উন্মোচন করা হয়। 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজস্বমন্ত্রী এন সি দেববর্মা, বিধায়ক রতন চক্রবর্তী, সুশান্ত চৌধুরী ও আগরতলা পুর নিগমের মেয়র ডঃ প্রফুল্লজিৎ সিনহা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বেশ কিছু সরকারি স্টলের ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর তিনি মন্দিরে যান।
সঙ্গে ছিলেন অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরাও। অত্যন্ত শ্রদ্ধাভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে চতুর্দশ দেবতা দর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। কথা বলেন প্রধান পুরোহিত ও রাজচন্তাই এর সঙ্গে। খারচি উৎসবের প্রথম দিনেই পুণ্যার্থীদের ব্যপক সমাগম লক্ষ্য করা যায়। সাতদিন ব্যাপী এই উৎসব ও মেলা চলবে আগামী ২৬ জুলাই পর্যন্ত। রাজ্যের সর্ববৃহৎ এই উৎসবে দেশবিদেশ থেকে পুণ্যার্থীরা আসেন। রাজন্য আমল থেকে চলে আসছে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব।
শুক্রবার(২০জুলাই) সকালে স্নানযাত্রার পর পূজা শুরু হয়। তার আগে চলে নানা ধর্মীয় উপাচার। প্রধান পুরোহিত, চন্তাই ও গালিমদের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পূজা শুরু হয়। 

পূজা শুরুর সময় রাজ্য পুলিশের তরফে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার। রাজন্য আমলের রীতি আর বর্তমান সময়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় এই খারচি পূজার আয়োজন করা হয়। 
প্রতি বছরের মতো এবছরও এই খারচি উৎসব ঘিরে সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যের জাতি উপজাতিদের কৃষ্টি সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। খয়েরপুর কেন্দ্রের বিধায়ক রতন চক্রবর্তী আহ্বান জানান, প্ল্যাস্টিক বর্জন করে পরিবেশ নির্মল রাখার। মেলায় যেন কেউ প্ল্যাস্টিক ক্যারিব্যাগ ব্যবহার না করেন সেই আহবান জানান তিনি। এদিকে মেলা উপলক্ষ্যে দর্শনার্থীদের কথা ভেবে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মোতায়ন করা হয়েছে পুলিশ ও টিএসআর জওয়ানদের। রয়েছেন স্কাউট এন্ড গাইডস এবং স্বেচ্ছসেবকরা। লাগানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। এই উৎসব সর্বাঙ্গীণ ভাবে সফল করে তুলতে উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

ছবিঃ সুমিত কুমার সিংহ
২০শে জুলাই ২০১৮ইং                

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here